গাজায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে ইসরাইল সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী

গাজায় চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও ব্যাপক প্রাণহানির মধ্যেই ইসরাইল সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এটি তাঁর দ্বিতীয় ইসরাইল সফর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে।

বুধবার বিকেলে তেল আবিবের বেনগুরিয়ন বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে স্বাগত জানান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরাইল ও ভারতের মধ্যে ‘অসাধারণ জোট’ গড়ে উঠেছে এবং আসন্ন বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতার নানা ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও বিনিয়োগ। এই চার খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মোদির নেতৃত্বে ভারত–ইসরাইল কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়, নজরদারি প্রযুক্তি ও যৌথ গবেষণায় সহযোগিতা বেড়েছে।

গত বছর ইসরাইলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ নয়া দিল্লি সফরের সময় দুই দেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে পারস্পরিক বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার।

তবে, মোদির এই সফর এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৭৩ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৫৬ জন আহত হয়েছেন।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা থাকলেও ভারত ইসরাইলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক অটুট রেখেছে।

ফলে মোদির এবারের সফর শুধু অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটেও তা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে।