লাখো মানুষের উপস্থিতিতে হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত, জাতীয় কবির পাশে দাফন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদির দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

এর আগে প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে ওসমান হাদির কফিন বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে তার কফিনের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা আদিলুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।

বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। শুক্রবার রাত পৌনে ৭টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর হাসপাতালের হিমঘরে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়।

এদিকে, পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শহিদ ওসমান হাদিকে কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সেন্ট্রাল মসজিদে বাদ জোহর জানাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে কারণে আজকের পরিবর্তে আগামীকাল মিছিলসহ মরদেহ সেখানে নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, মরদেহ দেখার কোনো সুযোগ রাখা হবে না। সবাইকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি শহীদ ওসমান হাদির জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর খবর ঢাকায় পৌঁছালে কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে অংশ নিতে গেলে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে মাথায় বিদ্ধ হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।