আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও ২০১৬ সালের ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন প্রয়াত যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িত জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে কংগ্রেসের এক তদন্তে সাক্ষ্য দেবেন। সাবেক প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে। এর ফলে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) তাদের বিরুদ্ধে অবমাননার (কনটেম্পট অব কংগ্রেস) অভিযোগে ভোট আয়োজনের যে পরিকল্পনা ছিল, তা আপাতত ঠেকতে পারে। ওই ভোট হলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের পথ খুলে যেতে পারত।
ক্লিনটনদের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত থাকবেন। সবার জন্য প্রযোজ্য এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে তারা আগ্রহী।’
উরেনার এই পোস্টের সঙ্গেই হাউস ওভারসাইট কমিটির একটি বিবৃতি যুক্ত করা হয়, যেখানে ক্লিনটনদের বিরুদ্ধে ‘আইনসম্মত সমন অমান্য’ করার অভিযোগ আনা হয় এবং বলা হয়, তারা ‘বিশেষ সুবিধা চেয়ে অবমাননার অভিযোগ এড়াতে চেষ্টা করছেন।’
গত সপ্তাহে কমিটি এপস্টেইনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে ক্লিনটন দম্পতিকে অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করেছিল।
এর আগে ক্লিনটন তদন্তে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে রাজি হননি। তাদের অভিযোগ ছিল, এই তদন্তটি মূলত দলীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দীর্ঘদিন এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ থাকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আড়াল করতেই এটি চালানো হচ্ছে।
এদিকে রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন ক্লিনটনদের সাক্ষ্য দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, পরিকল্পিত অবমাননার ভোট বাতিল হবে কি না-সে বিষয়ে কিছু বলেননি।
তিনি বলেন, ‘এটা ভালো অগ্রগতি। আমরা আশা করি, সবাই কংগ্রেসের সমন মেনে চলবে।’
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, এই তদন্তকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এপস্টেইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্পকে এখনো সাক্ষ্যের জন্য ডাকা হয়নি।
চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি এপস্টেইন-সংক্রান্ত লাখ লাখ নথি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। এসব নথিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
বিল ক্লিনটন ২০০০ সালের শুরুর দিকে, প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর, কয়েকবার এপস্টেইনের বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন।
তিনি পরে এই সম্পর্কের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না।
হিলারি ক্লিনটন জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে তার কোনো উল্লেখযোগ্য যোগাযোগ ছিল না, তিনি কখনো তার বিমানে ওঠেননি এবং তার ব্যক্তিগত দ্বীপেও যাননি।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে দীর্ঘ ছায়া ফেলছে এবং এর প্রভাব যুক্তরাজ্যেও বিস্তৃত হয়েছে।
এই ঘটনায় যুক্ত হয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ রাজপুত্র অ্যান্ড্রু এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
সোমবার যুক্তরাজ্যের পুলিশ জানায়, এপস্টেইন-সংক্রান্ত মার্কিন বিচার বিভাগের নথিতে ম্যান্ডেলসনের নাম ৫ হাজারের বেশি বার আসায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তারা পর্যালোচনা করছে।
উল্লেখ্য, এপস্টেইনকে ‘আমার সেরা বন্ধু” বলে উল্লেখ করে ইমেইল পাঠানো এবং কারামুক্তির বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর গত বছর ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।
তিনি এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, তবে সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
