ইউরোপে হামলা চালানোর সক্ষমতা আছে ইরানের?

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ইরান। কিন্তু তেহরান কি ইউরোপকেও নিশানা করতে পারে?

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ইউরোপের সামনে এই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে ভারত মহাসাগরের মার্কিন-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হেলি জানিয়েছেন, গত শুক্রবার ইরানের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি ব্যর্থ হয় এবং অন্যটি ঠেকানো হয়।

লক্ষ্যস্থল দিয়েগো গার্সিয়া ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ইউরোপে ইরান হামলা চালাতে পারে?

এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে- ইরান কি এখন লন্ডন, প্যারিসের মত ইউরোপের বড় শহরগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে পারে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে ইউরোপের সামনে ইরানের হামলার ঝুঁকি এখনো কম।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা

ইরান আগে দাবি করেছিল তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত সীমিত। তবে ইসরায়েল বলছে, ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

বাস্তবে দেখা যাচ্ছে- বর্তমানে ইরানের কাছে স্বল্প-পাল্লার বা ৩ হাজার কিলোমিটারের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা তারা নিয়মিতভাবে ইসরায়েল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ব্যবহার করছে।

তবে মধ্য-পাল্লার বা সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার দূরত্বে আঘাত হানার মত ক্ষেপণাস্ত্র তেহরানের কাছে আছে কিনা, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেডের বিশ্লেষক সিধার্থ কৌশল জানান, ইরানের মধ্য-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আগে থেকেই থাকার সম্ভাবনা ছিল।

“হালকা ওয়ারহেড ব্যবহার করলে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানো সম্ভব, তবে এতে ক্ষয়ক্ষতি কম হতে পারে।”

আরেক বিশ্লেষক ডেকার ইভেলেথ বলেন, “দূরপাল্লার ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতা কমে যায়। দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্যবস্তু ঠিকভাবে আঘাত করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

ইউরোপ কি নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাত্ত্বিকভাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লন্ডনসহ ইউরোপের অনেক বড় শহর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তবে বাস্তবে এটি খুবই সীমিত সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সম্ভব এবং সেগুলো দীর্ঘ দূরত্বে খুব একটা নির্ভুল হানতে সক্ষম হবে না।

এছাড়া ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে, যা এই ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম।