অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দেখলেই ব্রাশফায়ারের নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

চট্টগ্রাম নগরে প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড ও অস্ত্রবাজি ঠেকাতে কড়া অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) পুলিশের সব ইউনিটকে ওয়্যারলেসে দেওয়া এক নির্দেশনায় সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ জানিয়েছেন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দেখামাত্র সাবমেশিন গান (এসএমজি) দিয়ে ‘ব্রাশফায়ার’ করা হবে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই নির্দেশ কোনো নিরস্ত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কমিশনার বলেন, “ব্রাশফায়ার হবে শুধুমাত্র অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের জন্য। নিরস্ত্র জনসাধারণ বা রাজনৈতিক দলের সাধারণ মিছিলে থাকা কেউ এর আওতায় পড়বে না। তাদের গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

পুলিশ সদর সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে কমিশনার ওয়্যারলেসে একাধিকবার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে টহল ও অভিযানে থাকা সদস্যদের শিশা শটগান, দুটি গ্যাস গান এবং নাইন এমএম পিস্তল বহনের নির্দেশ দেন তিনি।

এ ছাড়া নগরের স্থায়ী চেকপোস্ট সংখ্যা ৭ থেকে বাড়িয়ে ১৩ করার নির্দেশও দেন কমিশনার হাসিব আজিজ।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, এই নির্দেশের পেছনে কারণ হলো সাম্প্রতিক সহিংসতা। গত ৫ নভেম্বর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা নিহত হন।

একই ঘটনায় এরশাদ উল্লাহ আহত হন। পরদিন একই এলাকায় গুলিতে এক রিকশাচালক আহত হন। এসব ঘটনার পর নগরজুড়ে অস্ত্রবাজদের দমন করতে নতুন কড়া নির্দেশনা আসে সিএমপি থেকে।

কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সন্ত্রাসীদের নগরে প্রবেশের সাহসই কমিয়ে দেওয়া। যারা প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখায়, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দণ্ডবিধি ৯৬ থেকে ১০৬ ধারায় পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। প্রয়োজনে সব দায় আমি নেব।”

তিনি আরও জানান, গত আগস্টে বন্দর থানার সল্টগোলা ক্রসিংয়ে আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার পর থেকেই নগরে অস্ত্রবাহী টহল দলের অনুমতি দেওয়া হয়। তখন থেকেই কমিশনার নির্দেশ দেন।

নতুন নির্দেশনার ফলে চট্টগ্রাম নগরে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও কঠোর হচ্ছে। পুলিশ বলছে, এর উদ্দেশ্য সন্ত্রাস দমন, তবে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।