মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা অ্যালড্রিচ অ্যামসকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ক্ষতিকর ডাবল এজেন্ট হিসেবে ধরা হয়।
প্রায় এক দশক ধরে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজেবি’র কাছে গোপন তথ্য সরবরাহ করেন, যার ফলে ভেস্তে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বহু গোপন অপারেশন।
১৯৮৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই গুপ্তচরবৃত্তির ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নে কর্মরত একের পর এক পশ্চিমা গুপ্তচর ধরা পড়ে। তাদের অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদের পর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে গোপন তথ্য বিক্রি করে অন্তত ১০ জন গুপ্তচরের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলেন এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
কেন ডাবল এজেন্ট হয়েছিলেন অ্যালড্রিচ অ্যামস
শীতল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে গুপ্তচরদের পিছনে। বিশ্বের নেতৃত্ব নিতে এক দেশের গোয়েন্দারা অন্য দেশের ভেতর থেকে এসব গুপ্তচর দিয়ে বের করে নিত গোপন তথ্য।
সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তা হয়ে অ্যালড্রিচ অ্যামস সোভিয়েত ইউনিয়নের গুপ্তচর হয়ে ওঠেন।
তিনি রাশিয়ায় থাকা ৩০ জনের বেশি মার্কিন গুপ্তচরের পরিচয় ফাঁস করেন। ১০০টির বেশি গোপন মার্কিন অপারেশনের তথ্য আগেই রুশদের কাছে পৌঁছে দেন।
তার তথ্যের কারণে রাশিয়ায় অন্তত ১০ জন গোয়েন্দা সদস্যের মৃত্যু হয়, যারা আবার মার্কিনীদের গুপ্তচর হয়ে কাজ করতেন।
তাদের মধ্যে ছিলেন সোভিয়েত সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দিমিত্রি পোলিয়াকোভ, যিনি দীর্ঘদিন পশ্চিমাদের তথ্য দিচ্ছিলেন।
অর্থাৎ, অ্যালড্রিচ অ্যামস এমন গুপ্তচর ছিলেন- যিনি নিজের দেশের পক্ষে কাজ করা গুপ্তচরদের রুশদের কাছে ধরিয়ে দিতেন!
তদন্তকারীরা জানান, আদর্শগত কারণে নয়- মূলত অর্থনৈতিক চাপে পড়েই গুপ্তচরবৃত্তির পথে হাঁটেন অ্যামস। ঋণ, ব্যয়বহুল জীবনযাপন এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন।
১৯৮৫ সালে ওয়াশিংটনে সোভিয়েত দূতাবাসে গিয়ে প্রথমবারের মতো গোপন তথ্য বিক্রি করেন তিনি। এর বিনিময়ে অ্যামস প্রায় ২৫ লাখ ডলার পান।
যেভাবে ধরা পড়েন অ্যালড্রিচ অ্যামস
দীর্ঘদিন ধরা না পড়লেও শেষ পর্যন্ত তার বিলাসবহুল জীবনযাপনই সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কম বেতনের চাকরি করেও নগদ অর্থে বাড়ি কেনা, দামী গাড়ি ব্যবহার, অতিরিক্ত খরচ- এসব কারণে তদন্ত শুরু হয় এবং ১৯৯৪ সালে তাকে গ্রেপ্তার করে এফবিআই।
১৯৯৪ সালের ২৮ এপ্রিল অ্যালড্রিচ অ্যামসকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তার বিশ্বাসঘাতকতা শুধু গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেনি, বরং বহু মানুষের প্রাণহানির কারণ হয়েছে।
আধুনিক গোয়েন্দা ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বড় নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত করা হয়।
