সার্চ বারে কিছু লিখে সরাসরি উত্তর পেয়ে গেলে আর কি আমরা আগের মতো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ক্লিক করি?
নতুন এক বিশ্লেষণ বলছে- মানুষের এই আচরণ দ্রুত বদলাচ্ছে, আর সেটিই ভবিষ্যতের ইন্টারনেটের জন্য বড় সংকেত হয়ে উঠতে পারে।
AI উত্তরই শেষ কথা হয়ে যাচ্ছে?
সাম্প্রতিক সময়ে গুগল সার্চে বড় পরিবর্তন এনেছে। আগে যেখানে সার্চ করলে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংকের তালিকা দেখা যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রেই প্রথমেই দেখা যায় AI-তৈরি সারাংশ—যাকে বলা হচ্ছে ‘AI Overviews’।
এই ফিচার অনেক সময় দ্রুত ও সুবিধাজনক উত্তর দেয়। তবে কখনো কখনো ভুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ তথ্যও দেয়।
ওয়েবসাইটের ক্লিক কমছে
পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে-
AI সারাংশ দেখলে ব্যবহারকারীরা প্রায় দ্বিগুণ কম লিংকে ক্লিক করে।
প্রায় ২৬% ক্ষেত্রে মানুষ সার্চ করেই ব্রাউজার বন্ধ করে দেয়।
অর্থাৎ, মানুষ উত্তর পেয়ে গেলে আর অন্য সাইটে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করছে না।
ঝুঁকিতে ওয়েবসাইটগুলোর আয়
ইন্টারনেটের বড় অংশের ওয়েবসাইট- বিশেষ করে নিউজ, ব্লগ বা তথ্যভিত্তিক সাইট মূলত বিজ্ঞাপন থেকে আয় করে। এই আয় পুরোপুরি নির্ভর করে ভিজিটরের উপর।
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক সাইটে ২০% থেকে ৪০% পর্যন্ত ট্রাফিক ও আয় কমে গেছে।
এআইয়ের কারণে কিছু ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি হতে পারে।
SEO বিশেষজ্ঞদের মতে, “গুগল থেকে ট্রাফিক না এলে অনেক ওয়েবসাইট টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”
‘AI Mode’- আরও বড় পরিবর্তনের আভাস
গুগল ইতিমধ্যে ‘AI Mode’ নামে একটি নতুন ফিচার চালু করেছে, যেখানে প্রচলিত সার্চ ফলাফল পুরোপুরি বাদ দিয়ে শুধুই AI-উত্তর দেখানো হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে ‘ওয়েবসাইটে ক্লিক করার’ ধারণাটিই হারিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি পুরো ওয়েব ইকোসিস্টেমকে দুর্বল করে দিতে পারে।
Google কী বলছে?
গুগল অবশ্য এসব আশঙ্কা পুরোপুরি মানতে রাজি নয়। তাদের দাবি-
তারা এখনো প্রতিদিন বিলিয়ন বিলিয়ন ক্লিক ওয়েবসাইটে পাঠাচ্ছে।
AI ফিচার ব্যবহারকারীদের নতুনভাবে তথ্য খুঁজতে সাহায্য করছে।
এআইয়ের সুবিধা বনাম ঝুঁকি
AI-চালিত সার্চ দ্রুত উত্তর দেয়। ফলে সময় বাঁচে। কারণ ব্যবহারকারীদের আর তথ্য জানার জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যেতে হচ্ছে না।
অন্যদিকে এআইয়ে ভুল তথ্যের ঝুঁকি থাকে। ব্যবহারকারীর নিজের মতো করে বিভিন্ন উৎস যাচাই করার সুযোগ কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই নির্ভরতার ফলে মানুষ ‘নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা’ও হারাতে পারে।
ভবিষ্যৎ কোথায় যাচ্ছে?
সবশেষে বড় প্রশ্নটি থেকে যায়-
যদি সবাই শুধু AI-এর উত্তরেই সন্তুষ্ট থাকে, তাহলে কনটেন্ট তৈরি করবে কে? আর ওয়েবসাইটগুলো টিকবে কীভাবে?
এই প্রবণতা যদি চলতে থাকে, তাহলে একসময় হয়তো অনেক ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যাবে- কারণ মানুষ আর সেখানে যাচ্ছে না।
এভাবে ক্লিক কমতে থাকলে, ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন নির্ভর উপার্জনও কমে যাবে। যা ওয়েবসাইটের টিকে থাকার ঝুঁকি তৈরি করছে।
