হিরো থেকে ভিলেন: ইউক্রেনে যেসব কারণে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন জেলেনস্কি

ভোটারদের রায় নিয়েই ইউক্রেনের মসনদে বসেছিলেন ভলোদিমির জেলেনস্কি, তার সেই জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়েছিল কিয়েভে রাশিয়ার হামলার পর।

যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে শুধু ইউক্রেনীয়দের মাঝেই নয়, বিশ্বমঞ্চে সমীহ আদায় করে নিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

রুশ আগ্রাসনের শুরুতে তিনি সাহসিকতা ও দৃঢ় নেতৃত্ব দেখিয়েছিলেন, সেই কারণে তার জনপ্রিয়তা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে।

কিন্তু প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যেই তার জনপ্রিয়তা এখন কমে আসছে। দেশটির মানুষ তার ওপর আর আগের মত আস্থা রাখতে রাজি নয়।

জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা কমার কারণ

২০১৯ সালে জেলেনস্কি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু শাসনভার নেওয়ার পর তার ইমেজ অনেকটা বদলে গেছে।

সাম্প্রতিক সময় দেশটির দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিতর্কও জেলেনস্কির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

অনেক ইউক্রেনীয় মনে করেন, তিনি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করছেন এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিকে নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর কাজে লাগাচ্ছেন।

এছাড়া যুদ্ধের কারণে সরকার পরিচালনা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে, যা অনেক সময় জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা কমিয়েছে।

ফলে জরিপে দেখা যাচ্ছে যে- এখনও মানুষ তাকে নেতা হিসেবে সমর্থন করে, কিন্তু অনেকেই মনে করেন ভবিষ্যতে আবার নির্বাচিত হওয়া জেলেনস্কির জন্য কঠিন হতে পারে।

অনেক রাজনীতিক ও বিশ্লেষক মনে করেন, ইউক্রেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন খুবই জটিল ও পরিবর্তনশীল। সেখানে জেলেনস্কির ভাবমূর্তি আর ‘জাতির রক্ষাকর্তা’ পর্যায়ে নেই।

সবমিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ সাধারণ মানুষকে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার তাগিদ দিচ্ছে, যিনি হবে জেলেনস্কির তুলনায় ভালো বিকল্প।