আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে টানা তিন দিনের প্রাণঘাতী সরকারি দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছেন হাজারো বিক্ষোভকারী।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
বিবিসির যাচাইকৃত ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দেখা গেছে, সরকার বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
একই সঙ্গে দেশজুড়ে জারি রয়েছে নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট।
ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ শনিবার ঘোষণা দিয়েছেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নেবে তাদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে। যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভে ইতোমধ্যে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূলত লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকট থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা। তবে তা দ্রুতই রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং এখন বিক্ষোভকারীরা দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছেন।
খামেনি অবশ্য বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই আন্দোলনে নেমেছে।
বিক্ষোভ ঠেকাতে সরকার পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা কার্যত অচল করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট তো বটেই, এবার প্রথমবারের মতো দেশের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক বা ইনট্রানেটও কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে।
ইন্টারনেট গবেষক আলিরেজা মানাফি বলেন, ইরানে বর্তমানে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ। স্টারলিংকের মতো বিকল্প মাধ্যম ছাড়া বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তবে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি সতর্ক করেন।
বিবিসি পার্সিয়ান নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে আট জন শিশু রয়েছে। শুধু রাশত শহরের একটি হাসপাতালে এক রাতেই ৭০টি মরদেহ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তেহরানের এক হাসপাতালকর্মী জানান, আহতের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে অনেককে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ নিহত তরুণ, যাদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বাধীনতার কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত।”
এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার বলেছেন, ইরানের জনগণ মত প্রকাশের জন্য সহিংসতার মুখে পড়তে পারে না।
ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে বলেছেন, তারা একা নয় এবং তিনি শিগগিরই তাদের পাশে থাকার আশা করছেন।
২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় ও বিস্তৃত বিক্ষোভ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
