ইরান বড় বিপদে পড়েছে বলে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি

ইরানে আর্থিক সংকট ও মুদ্রার পতনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরকার বিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রায় সবগুলো প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে।

দেশজুড়ে অর্ধশত বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপ গুলো জানিয়েছে। সংঘর্ষে তিনশোরও বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে, সরকারি তথ্যে এ সব ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, সরকার বিক্ষোভ ঠেকাতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করেছে, ফলে বাইরে থেকে তথ্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং প্রতিবাদকারীরা যোগাযোগ করতে পারছে না। তবে, স্টারলিংকের মাধ্যমে কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ‘দুষ্কৃতকারী’ ও ‘একদল ভাঙচুরকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই সহিংসতা চালাচ্ছে।

শুক্রবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে খামেনি বলেন, ট্রাম্প যখন বলেন ‘আমি তোমাদের সমর্থন করি, তখনই কিছু লোক রাস্তায় নেমে ভবন ধ্বংস করতে শুরু করে।’

খামেনি আরও বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র কয়েক লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এবং যারা এ বাস্তবতা অস্বীকার করে তাদের সামনে কখনো মাথা নত করবে না।’

এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান বড় বিপদে পড়েছে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাদের এমন জায়গায় আঘাত করব, যেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যথা লাগবে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপের অর্থ ইরানে সেনা পাঠানো নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এসব বিক্ষোভ এখন ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। প্রথমে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও বিক্ষোভ দ্রুতই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান এবং এমনকি রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫১, যার মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে।