মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত মামলায় নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রীকে।
বহুল আলোচিত মামলাটির তত্ত্বাবধান করছেন নাইন ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার রায় দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচারক অ্যালভিন কে হেলারস্টেইন।
মাদুরোর গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে প্রথমে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার থেকে সাঁজোয়া গাড়িতে করে বের করা হয়। পরে একটি হেলিকপ্টারে নিউইয়র্কের আদালতের কাছাকাছি একটি হেলিপোর্টে অবতরণ করে।
সেখান থেকে আবার প্রিজন ভ্যানে করে আদালত ভবনে নেওয়া হয় তাদের। পুরো সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাদক দমন সংস্থা ডিইএর সশস্ত্র সদস্যরা নিরাপত্তায় ছিলেন।
মাদুরো ও তার স্ত্রীর হাতকড়া পরানো ছিল। তিনি হালকা বাদামি রঙের জ্যাকেট ও ট্রাউজার পরিহিত ছিলেন এবং চারপাশে সশস্ত্র নিরাপত্তা সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। মাদুরোকে এসময় খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটতে দেখা গেছে।
বহুল আলোচিত মামলাটি তত্ত্বাবধান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিচারক অ্যালভিন কে. হেলারস্টেইন। ৯২ বছর বয়সী এই বিচারক এর আগে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা সংশ্লিষ্ট মামলাসহ জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি নিয়েছেন।
এমনকি, এই বিচারকই সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হুগো কারভাহালের নার্কো-সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মামলার শুনানি নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মামলাকে ফেডারেল আদালতে স্থানান্তরের আবেদনও খারিজ করেছিলেন।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নিকোলাস মাদুরো একটি ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেছেন এবং মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহে জড়িত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন মাদুরো।
মার্কিন আইনি ব্যবস্থায় একজন অভিযুক্ত হিসেবে নিকোলা মাদুরো অন্যান্য আসামিদের মতোই সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের নিয়ে গঠিত জুরি বোর্ডের মাধ্যমে বিচার পাওয়ার অধিকার পাবেন।
তবে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার অবস্থান এই মামলাকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।
এদিকে মাদুরোর গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চীন, ইরানসহ তার মিত্র দেশগুলো এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
