উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় নীরব ঘাতক। কারণ, অনেকক্ষেত্রেই এর কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্তদের ৪৬ শতাংশই জানেন না যে, তারা হাইপারটেনশনে ভুগছেন।
এজন্য উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেশারের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
উচ্চ রক্তচাপের কারণ কি?
যে কেউই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে এর পিছনে দুটো বড় কারণ রয়েছে।
প্রথমত, বংশগত কারণে অনেকে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাই বাবা-মা বা পরিবারের ঘনিষ্ঠদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে সতর্ক থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত, জীবনাচরণের কারণে অনেকেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন। আগের তুলনায় মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসায় এখন অনেকেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হচ্ছেন।
কারা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে?
জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে।
অলসতা: যারা অলস জীবনযাপন করেন, তারা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
দুশ্চিন্তা: অতিরিক্ত টেনশন ব্যক্তিকে হাইপারটেনশনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ধূমপান ও মদ্যপান: যারা ধূমপান করেন কিংবা মদ পান করেন, তারাও হাই প্রেশারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন।
অতিরিক্ত লবন: যারা বেশি লবন খান, তাদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি রয়েছে।
অত্যধিক ওজন: শরীরের ওজন অনেক বেড়ে গেলে তা হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়ায়।
এছাড়াও নারীদের তুলনায় পুরুষদের এবং তরুণদের তুলনায় বয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
উচ্চ রক্তচাপ হলে যা হতে পারে
উচ্চ রক্তচাপ শরীরে বিবিন্ন ধরণের বিপদ ডেকে আনতে পারে। হাইপারটেনশনকে বলা হয় হৃদরোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ।
স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক ছাড়াও উচ্চ রক্তচাপে কিডনী ফেইলিয়রের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে করণীয়
উচ্চ রক্তচাপ থেকে বেঁচে থাকতে হলে দা প্রতিরোধে বেশকিছু সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজের জীবনযাত্রার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে যা করবেন-
লবন ও লবনযুক্ত খাবার কম খেতে হবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
শাকসবজি ও ফল বেশি করে খেতে হবে।
নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে বা শরীরকে সক্রিয় রাখতে হবে।
মদপান, ধূমপানসহ সব ধরণের তামাক থেকে দূরে থাকতে হবে।
দুশ্চিন্তা কমিয়ে মানসিক চাপ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
মনে রাখবেন, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
