আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন বছর ও নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতে দেখা গেল ব্যতিক্রমী দৃশ্য।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী শহরটিতে প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানির প্রকাশ্য অভিষেকে উপচে পড়া জনসমাগম ও সাত ব্লকজুড়ে উৎসব। আর ধনীদের ওপর কর বাড়াও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নগরী।
রাজনৈতিক অভিষেক সাধারণত গম্ভীর ও আনুষ্ঠানিক হলেও মেয়র নির্বাচনী প্রচারণার মতোই শপথ অনুষ্ঠানেও প্রচলিত রীতিকে ভেঙে দেন ৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি।
২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে টাইমস স্কোয়ারে বল নামার ঠিক পরেই, মধ্যরাতে নিউইয়র্ক সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনের সিঁড়িতে এক ছোট পরিসরের অনুষ্ঠানে শপথ নেন মামদানি।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী রামা দুয়াজি।
শপথ গ্রহণে তিনি নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি থেকে আনা একটি ঐতিহাসিক কোরআন এবং তার দাদার ব্যবহৃত আরেকটি কোরআন ব্যবহার করেন।
নববর্ষের পরেরদিন সিটি হলের সিঁড়িতে জনসমুদ্রের সামনে আবারও শপথ নেন মামদানি। তীব্র শীত উপেক্ষা করে লোয়ার ম্যানহাটনে জড়ো হন কয়েক দশ হাজার সমর্থক।
তার সঙ্গে দায়িত্ব নেন সিটির কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন ও পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পর্যায়ের প্রগতিশীল রাজনীতিকরাও। কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কোর্তেজ এবং ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তারা নিউইয়র্কে প্রগতিশীল শাসনের লক্ষ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেন।
প্রথাগত টিকিট-নির্ভর অভিষেকের বদলে সিটি হলের আশপাশে সাত ব্লকজুড়ে উন্মুক্ত ব্লক পার্টির আয়োজন করা হয়। নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে হাজারো নিউইয়র্কার বড় পর্দায় শপথ অনুষ্ঠান দেখেন। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, কেউ কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারলেও দূর থেকে উল্লাস জানান।
ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদ নোমিকি কনস্ট জানান, এই আয়োজন রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতীক।
মামদানি, লেভিন ও উইলিয়ামস ইংরেজি, স্প্যানিশ, হিব্রু ও গ্রিক ভাষায় বক্তব্য দেন। ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি-বিভিন্ন ধর্মের নেতারাও মঞ্চে ছিলেন।
মামদানি বলেন, “আমরা এই শহরকে আরও কাছাকাছি আনব। ব্যক্তিকেন্দ্রিক শীতলতা বদলে আনব সমষ্টিগত উষ্ণতা।”
অভিষেকের কেন্দ্রীয় বার্তা ছিল-অতি ধনী ও বড় করপোরেশনকে বেশি কর দিতে হবে।
মামদানি প্রতিশ্রুতি দেন, সিটির করপোরেট করহার ৭.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১.৫ শতাংশে নেওয়া হবে এবং বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয়কারীদের ওপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। যদিও এর জন্য গভর্নরের অনুমোদন প্রয়োজন।
আবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ মামদানির আরেকটি প্রধান অঙ্গীকার। তিনি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত (রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড) অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন, যা শহরের প্রায় অর্ধেক ভাড়াবাড়িকে অন্তর্ভুক্ত করে।
শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্রুকলিনের একটি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ভবনে তিনি তিনটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর মধ্যে শহরের জমি আবাসনের জন্য ব্যবহার ও নতুন আবাসন উন্নয়নে দুটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত রয়েছে।
