আলোচনা-সমালোচনার মাঝে এনসিপি, এলডিপি নিয়ে জামায়াতের ১০ দলের জোট

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বড় ধরনের নির্বাচনী সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে।

এই সমঝোতায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। ফলে আট দলের সমঝোতা এখন রূপ নিয়েছে ১০ দলের যৌথ নির্বাচনী বোঝাপড়ায়।

রোববার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সংকটময় বাস্তবতায় দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই এই দলগুলো একসঙ্গে কাজ করছে।

জামায়াত আমির জানান, এনসিপির সঙ্গে বৈঠক ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যদিও সময় ও সাংগঠনিক কারণে এনসিপির নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরাসরি আট দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিগগিরই এনসিপি আলাদা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানাবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১০ দল মিলে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে প্রার্থী নির্ধারণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দু-একটি বিষয়ে আলোচনা বাকি থাকলেও মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সেগুলো সমঝোতার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনের সময় খুব সীমিত উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, নির্ধারিত সময়েই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে দলগুলো অনড়। তবে সে জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। তাঁর অভিযোগ, এখনো সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও সমতল মাঠ নিশ্চিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অতীতের তিনটি নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আগামী নির্বাচনে যদি আবার ভোটাধিকার হরণ করার চেষ্টা হয়, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আসন বণ্টনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, কোনো একক দল কাউকে আসন দিচ্ছে না। ন্যায্যতার ভিত্তিতে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই আসন নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন এই রাজনৈতিক সমঝোতা শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক নয় বলেও দাবি করেন জামায়াত আমির। তাঁর ভাষায়, এটি দেশ গঠনের জোট, রাজনৈতিক ও জাতীয় ইস্যুতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও দলগুলো একসঙ্গে আন্দোলনে থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমিরের পাশে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি জানান, নতুন দুই দল যুক্ত হওয়ায় এটি এখন ১০ দলের নির্বাচনী সমঝোতা হিসেবেই পরিচিত হবে।

এ সময় সমঝোতায় যুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।