সম্প্রীতি রহমান
বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমারের মত দেশের বাসিন্দারা প্রায়ই ভূমিকম্পের মুখোমুখি হচ্ছেন।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চল নিয়মিতই কেঁপে উঠছে, যা কোটি কোটি মানুষকে উদ্বিগ্ন করছে।
বড় ভূমিকম্পের বিপদ এড়াতে তাই প্রয়োজন সতর্ক থাকা। ভূমিকম্প হলে কি করতে হবে- সে সম্পর্কে ধারণা থাকলে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
আরও পড়ুন: মধ্যরাতে ভূমিকম্পে কাঁপল ভারত-বাংলাদেশ
আজকে থাকছে ভূমিকম্পে নিরাপদে থাকার পরামর্শ। সঙ্গে থাকছে ভূমিকম্পের আগে ও পরে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা।
ভূমিকম্পের সময় কি করবো?
ভূমিকম্পের সময় কি করতে হবে- সে সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে এই সময়ে ভয়-আতংকে তারা নানা ধরণের পদক্ষেপ নেয়।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্পে ফের কাঁপলো বাংলাদেশ
সেজন্য দেখা যায়, ভূমিকম্পে যে পরিমাণ ক্ষতি হয় তারচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় আতংকে।
মনে রাখবেন, ভূমিকম্পের অল্প কয়েক সেকেন্ড সময় আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসময় ভুল করা, আতংকে লাফ দেয়া বা যত্রতত্র দৌঁড় দেয়ার মত পদক্ষেপ আপনার প্রাণহানির কারণও হতে পারে।
সেজন্য ভূমিকম্পের সময় যা করতে হবে-
১. অন্য দুর্যোগের মত ভূমিকম্পের সময়ও শান্ত থাকুন, অন্যদেরও শান্ত থাকতে সাহায্য করুন।
২. ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো খোলা স্থান, যেখানে ভবন নেই। সুযোগ থাকলে কম্পন না থামা পর্যন্ত খোলা জায়গায় থাকুন।
৩. যদি ঘরের ভিতরে থাকেন- টেবিল, বিছানা, দরজার ফ্রেম বা ভেতরের দেয়ালের নিচে আশ্রয় নিন। মাথা সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করুন।
কাঁচের দরজা-জানালা কিংবা যেসব জিনিস পড়ে যেতে পারে- সেসব থেকে দূরে থাকুন। ধাক্কাধাক্কি করে দ্রুত বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। লিফট ব্যবহার করবেন না।
৪. যদি বাইরে থাকেন- ভবন ও বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে সরে যান।
৫. চলন্ত গাড়িতে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব গাড়ি থামান এবং গাড়ির ভেতরেই থাকুন।
৬. পোষা প্রাণী ও গৃহপালিত পশুগুলোকে মুক্ত করে দিন, যেন তারা বাইরে যেতে পারে।
৭. মোমবাতি, দেশলাই বা কোন উন্মুক্ত আগুন ব্যবহার করবেন না। সব আগুন নিভিয়ে ফেলুন। সময় পেলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দিন।
ভূমিকম্পের পরে করণীয়
ভূমিকম্পের সময়ের মত ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় সতর্কভাবে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
১. আফটারশকের জন্য প্রস্তুত থাকুন। ভূমিকম্পের পর আবারও আপনার এলাকা কেঁপে উঠতে পারে। সেজন্য পানি, খাবার, লাইট ও ফার্স্ট এইড সরঞ্জাম নিরাপদ স্থানে মজুদ রাখুন।
২. ভূমিকম্পের পরপরই গণমাধ্যম বা সরকারি কর্তৃপক্ষের বার্তা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আফটারশকের সতর্কবার্তা জানুন। গুজব ছড়াবেন না এবং কোন গুজবে বিশ্বাস করবেন না।
৩. অন্যদের সাহায্য করুন এবং সাহস জোগান। প্রয়োজন হলে আহতদের হাসপাতালে নিন।
৪. রান্নাঘরের গ্যাসের লাইন চালু থাকলে বন্ধ করুন। ভূমিকম্পের পরপরই চুলা জ্বালাবেন না। কোন আগুন ব্যবহার করবেন না।
৫. গ্যাস লিকের সন্দেহ হলে কোন বৈদ্যুতিক সুইচ বা যন্ত্র চালু করবেন না।
৬. পানির পাইপ, ইলেকট্রিক লাইন ও বাসার ফিটিংগুলো পরীক্ষা করুন। ক্ষতি হলে প্রধান সুইচ বন্ধ করুন। বৈদ্যুতিক তার স্পর্শ করবেন না।
৭. প্রয়োজন হলে আলমারি বা অন্যান্য আসবাবের দরজা সাবধানে খুলুন, কারণ জিনিস পড়ে যেতে পারে।
ভূমিকম্পের আগে করণীয়
ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা জরুরি। আগে থেকেই কিছু বিষয়ে নজর দিলে বিপদ অনেকটাই কমে যাবে।
সেজন্য ভূমিকম্পের আগে যা করতে হবে-
১. বাড়ির বিদ্যুৎ ও পানির প্রধান সুইচ বন্ধ করার জায়গাগুলো চিনে রাখুন।
২. ভূমিকম্প সহনীয় নির্মাণের জন্য নিরাপদ বিল্ডিং কোড অনুসরণ করুন এবং অন্যদেরও তা মানতে উৎসাহিত করুন।
৩. দুর্বলভাবে তৈরি করা ভবন সংস্কার বা শক্তিশালী করার পক্ষে কথা বলুন।
৪. জরুরি পরিস্থিতির জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন এবং সবসময় প্রস্তুত থাকুন।
৫. ভারী জিনিস, কাঁচের পাত্র, ছুরির মত ধারালো জিনিস নিচের তাকগুলোতে রাখুন; যাতে কম্পনে পরে না যায়। তাতে ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।
৬. টবের গাছ বারান্দার রেলিংয়ে রাখবেন না।
৭. আপনার এলাকার মেডিকেল সেন্টার চিনে রাখুন। ফায়ার সার্ভিসের মত জরুরি সেবার নম্বর সঙ্গে রাখুন। উদ্ধার কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখুন।
