রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন এক সময়ে নয়াদিল্লী সফর করছেন, যখন বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের অবস্থান মনোযোগের কেন্দ্রে রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই ভারতের উপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ইউক্রেন ইস্যুতে ভারতকে চেপে ধরতে যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিল্লীকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের শর্তও হাজির করে।
এসবের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান যে পাল্টে যেতে পারে, তা নিয়ে কূটনৈতিকরা বার্তা দিয়ে আসছেন।
ফলে পুতিনের ভারত সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নজরে রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
দুই দিনের সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনেও অংশ নিবেন।
এই সফরে তেল, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে মস্কো ও নয়াদিল্লীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
পুতিন যে কারণে মোদির ভারতকে পাশে চান
রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক মিত্রতা থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গ পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করে তুলে ভারত। নিজেদের কূটনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব রাজনীতির দুই বলয়কে কাছে রাখার কৌশল নেয় নয়াদিল্লী।
সম্প্রতি পশ্চিমাদের সঙ্গে ভারতের টানাপোড়েনের মধ্যে মস্কো চাইছে নয়াদিল্লীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে। এর পেছনে বেশকিছু কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথমত, বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভারতের রয়েছে দেড় বিলিয়ন মানুষের বিশাল বাজার, যা রুশ পণ্য ও জ্বালানির বড় ক্রেতা।
এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারতের মাত্র ২.৫% তেল আসত রাশিয়া থেকে। রুশ ছাড়ের ফলে তা বেড়ে ৩৫%-এ পৌঁছায়। ভারত লাভবান হলেও যুক্তরাষ্ট্র এতে অসন্তুষ্ট হয়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক বসায়। এরপর ভারত রুশ তেল আমদানি কমাতে শুরু করে। পুতিন চান ভারত আবার রুশ তেল কেনায় আগ্রহী হোক।
এদিকে সোভিয়েত যুগ থেকেই ভারত রুশ অস্ত্রের বড় ক্রেতা। এবারও উন্নত যুদ্ধবিমান ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পুতিন সামরিক সরঞ্জামের ক্রেতা হিসেবেও ভারতকে হাতে রাখতে চাইছেন।
ভারতের অর্থনীতির বড় শক্তি দেশটির জনসম্পদ। ইতোমধ্যে পশ্চিমা দেশগুলোতে ভারতীয় কমিউনিটি বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। রুশ প্রেসিডেন্টও চান, তার দেশের শ্রমিক সংকট কাটাতে ভারতের দক্ষ কর্মীরা কাজে আসবে।
তবে সবার উপরে রয়েছে রাজনৈতিক বার্তা। নয়াদিল্লীর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে পুতিন দেখাতে চান যে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া একা নয়। ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে শক্ত অবস্থান তুলে ধরছেন।
রুশ-ভারত সম্পর্কে নয়াদিল্লীর লাভ যেখানে
ভ্লাদিমির পুতিনের মতো নরেন্দ্র মোদির কাছেও মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত সবসময়ই ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ নীতি মেনে চলেছে। পশ্চিম ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্য রেখে এগুতে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধেও ভারত প্রকাশ্যে রাশিয়ার বিরোধিতা করেনি।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেও ভারত চাইছে পশ্চিম ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত রাখতে।
রাশিয়ার বাজারে আরও বেশি করে ভারতীয় পণ্য পাঠাতেও এ সম্পর্ক মোদির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য মস্কোর সামরিক সরঞ্জামের উপর ভারত এখনো নির্ভরশীল। ফলে সামরিক শক্তি বাড়াতে রাশিয়াকে পাশে রাখতে চাইবে নয়াদিল্লী।
