ভূতের সাথে রাত কাটায় যেসব দেশের মানুষ!

ভাবুন আপনি একদিন ভুতের সাথে রাত কাটিয়েছেন। সেই সঙ্গে গল্প, আড্ডা, খাওয়া দাওয়া তো আছেই। তবুও আপনি ভয় পাচ্ছেন।

ভূতের সাথে এমনই একটি দিন কাটে বেশ কয়েকটা দেশের মানুষের। সেই সঙ্গে মানুষের কঙ্কাল, ভূতুড়ে পোশাক, মুখে বিচিত্র রঙের আঁকিবুঁকি, হাতে রূপকথার ডাইনি উড়ানো ঝাড়ু, আর মাথায় ছুঁচালো টুপি!

এমন কতই না ভূতরে সাজ। দেখলে মনে হবে ভূতুড়ে কোনো রঙিন উৎসব।

জানেন কি এই দিনটাকে কি বলা হয়? এটা হলো হ্যালোইন উৎসব!

প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর, পশ্চিমা দেশগুলোতে পালিত হয় ভয়, হাসি আর আনন্দে ভরা এই উৎসব।

সন্ধ্যার পর থেকেই গোটা এলাকা ডুবে যায় রহস্যময় এক গা ছমছমে পরিবেশে।

কেউ সাজায় বাড়ির সামনে প্রাচীন লণ্ঠনের মতো আলো, কেউ আবার কুমড়ায় ভয়াবহ মুখ খোদাই করে তার ভেতরে বসায় মোমবাতি।

যা জ্বলে ওঠে মিটমিট করে, তৈরি করে ভৌতিক অথচ রঙিন আবহ। ভূতের নানা সাজে যখন ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নামে, মনে হয় রূপকথার কোনো দৃশ্য যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে!

এই রাতে বাচ্চারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে বলে ঞৎরপশ ড়ৎ ঞৎবধঃ!” মানে মিষ্টি দাও, না হলে একটু দুষ্টুমি করব! ইউরোপ বা পশ্চিমা দেশগুলোতে পালিত হয় এই উৎসব।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে শুধু এই উৎসব ঘিরেই হয় কোটি কোটি ডলারের বাণিজ্য। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে আয়োজিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যালোইন প্যারেড, যেখানে অংশ নেয় হাজারো মানুষ, রূপকথার চরিত্রে সেজে ডাইনি, ভ্যাম্পায়ার, পরী বা জম্বি হয়ে।

কিন্তু জানেন? এই উৎসবের শুরুটা বহু পুরোনো এবং লুকিয়ে আছে ইতিহাস।

প্রায় দুই হাজার বছর আগে, ইউরোপের প্রাচীন কেল্টিক জনগোষ্ঠী পালন করত সামহেইন নামের ফসল কাটার উৎসব।

তাদের বিশ্বাস ছিল, ৩১ অক্টোবর রাতে মৃত আত্মারা পৃথিবীতে ফিরে আসে, ঘুরে বেড়ায় জীবিতদের মাঝে।

এই আত্মাদের ভয় দেখাতেই মানুষ পোশাক বদলাত, মুখোশ পরত, আগুন জ্বালাত। যাতে আত্মারা বুঝতে না পারে তারা জীবিত না মৃত।

পরে খ্রিস্টধর্মের প্রভাবে এই উৎসবের নাম হয় ‘অল হ্যালোজ ইভ’, অর্থাৎ ‘পবিত্র সন্ধ্যা’। সময় যেতে যেতে সেই “হ্যালোজ ইভ” শব্দই পরিণত হয় আজকের “হ্যালোইন”-এ।

প্রথম দিকে আয়ারল্যান্ডে কুমড়ার বদলে শালগমে ভয়ঙ্কর মুখ খোদাই করা হতো, যাতে অশুভ আত্মারা ঘরে ঢুকতে না পারে।

পরে আমেরিকায় গিয়ে শালগমের জায়গা নেয় কুমড়া এবং সেটিই হয়ে ওঠে হ্যালোইনের প্রতীক। এখন এই উৎসব পালনে কুমড়া ছাড়া হয়ই না।

আজ হ্যালোইন শুধু ধর্মীয় উৎসব নয় এটি এখন আনন্দ ও বিনোদনের উৎসব। পরিত্যক্ত বাড়ি সাজানো হয় ভূতের বাড়ি হিসেবে। যেখানে মানুষ ভয় পেতেও আসে, আবার মজা করতেও!

বড়রা আয়োজন করে ভৌতিক থিমে সাজানো পার্টি, আর সিনেমা হলে মুক্তি পায় নতুন হরর সিনেমা। এ যেন এমন এক রাত যেখানে ভয়ও পরিণত হয় উৎসবে!

একসময় হ্যালোইনের রাতে মানুষ খেলত ভাগ্য গণনা, ভবিষ্যৎ জানার খেলা, জ্বালাত পবিত্র আগুন, গাইত লোকগান, নাচত প্রভাত পর্যন্ত। কিন্তু সময় বদলেছে।

আজ এই উৎসব ধর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে, ছড়িয়ে পড়েছে বিনোদনের জগতে। যেখানে সবাই মিলে ভয় আর হাসির মিশেলে উদযাপন করে এক রাত্রির উৎসব।

যেখানে অন্ধকারেও থাকে আলো, আর মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আনন্দ।