মোদির চীন সফর যুক্তরাষ্ট্রকে কি বার্তা দিচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের পর ভারত ও চীন উভয় দেশই বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ভারত বেইজিংয়ের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনলে তা হবে ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধাক্কা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর ভারত-চীনের সম্পর্কে নতুন মোড় আনতে পারে।

ট্রাম্পের শুল্কের ধাক্কা

গত বুধবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের হীরা, চিংড়ির মতো রপ্তানি পণ্যে শুল্ক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে।

ওয়াশিংটনের দাবি, রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রাখায় দিল্লিকে এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

এতে ভারতের রপ্তানি খাত ও প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও নিজ দেশের ধীরগতির অর্থনীতিকে চাঙা করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক তার পরিকল্পনাকেও ব্যাহত করছে।

ফলে দুই দেশই এখন পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী হতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ

ভারত ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়।

এরপর থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়, চীনা বিনিয়োগ থেমে যায় এবং ভারত ২০০টির বেশি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে, যার মধ্যে টিকটকও ছিল।

তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দুই দেশকে আবার আলোচনায় বসতে বাধ্য করছে। ইতোমধ্যেই সরাসরি ফ্লাইট চালু ও ভিসায় ছাড় দেওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ভারতের অবস্থান বদলেছে

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হয়ে যাওয়ায় ভারত এখন বহুমুখী কূটনীতি জোরদার করছে। এজন্যই মোদি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে চীন, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরান সদস্য।

চীনও এই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ‘গ্লোবাল সাউথ’ ঐক্যকে সামনে তুলে ধরতে চাইছে। ব্রিকসেও ভারত ও চীন একসঙ্গে রয়েছে, যেটি ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে আরও চাপে পড়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ

ভারত এখনো চীনের ওপর শিল্পখাতের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের জন্য নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন থেকে কম শুল্কে আমদানি ও দ্রুত ভিসা অনুমোদন ভারতকে অনেকটা স্বস্তি দিতে পারে।

অন্যদিকে চীনও ভারতের ১৪৫ কোটির বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছে।

যদিও এক বৈঠকেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে মোদির এই সফর দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে শীতল সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ করতে পারে।

একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত দেবে যে, ভারতের বিকল্প কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথ রয়েছে।