আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ নতুন করে বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে সংঘাত এখন উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে কুয়েতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে, অন্যদিকে ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির একটি পানি লবণাক্ততা দূরীকরণ কেন্দ্র (ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট) এবং একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
যদিও ইরান সরাসরি পানি স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবুও এই ঘটনা উপসাগরীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে ইসরাইলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বাড়িঘর ও যানবাহন ধ্বংস হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
একই সঙ্গে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে, যা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা এখনো পূর্ণমাত্রায় শুরুই হয়নি। তার এই বক্তব্য নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা বাড়ালে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শান্তির আহ্বান জোরালো হচ্ছে। ভ্যাটিকান থেকে জানানো হয়েছে, পোপ লিও চতুর্দশ ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধ বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ‘ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী সংকটের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে। এর প্রভাব খাদ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
