আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলে সঙ্গে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। সামরিক হুমকি, পাল্টা হুঁশিয়ারি এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ১১৫ ডলারের ওপরে উঠেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলে নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত একটি শান্তি চুক্তিও সম্ভব।
ইরানের তেল রপ্তানির বড় অংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক।
এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের বাড়ি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা বিস্তৃত করা হতে পারে।
দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার জানিয়েছেন, মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েন হলে তাদের ওপর ‘অগ্নিবৃষ্টি’ নামানো হবে।
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি ওমান উপসাগরও এখন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছে ইরান। অন্যদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তাবরিজ এলাকায় পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবার ইসরাইলি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। কুয়েতে একটি জ্বালানি ও লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ইরানের হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এছাড়া লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় এক শান্তিরক্ষী কর্মী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ভিক্টরি বেসে রকেট হামলায় ইরাকি বিশেষ বাহিনীর একটি বিমানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সেনা এবং একটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। এশিয়ার বাজার খোলার পরই তেলের দাম বেড়ে যায়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টরামার আজ ডাউনিং স্ট্রিটে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
