আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহত ২০, আহত ৩ শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তর আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে ৬.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া ৩২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সমাঙ্গান প্রদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামিম জয়ান্দা।

হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্র ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৯ মিনিটে মাজার-ই-শরিফ শহরের কাছে ২৮ কিলোমিটার গভীরে ভূকম্পন হয়।

৫ লাখ মানুষের শহর মাজার-ই-শরিফে রাতে ভূমিকম্পের সময় বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

আফগানিস্তান বারবার ভূমিকম্প হচ্ছে কেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চলে ইউরেশীয় ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করায় আফগানিস্তানে প্রায়ই বড় ভূমিকম্প হচ্ছে।

ব্রিটিশ ভূকম্পবিদ ব্রায়ান ব্যাপ্টির তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানে ৭ মাত্রার ওপরে অন্তত ১২টি ভূমিকম্প ঘটেছে।

এটিকে তালেবান সরকারের জন্য বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২১ সালে ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে দেশটি তিনটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়েছে। বিপরীতে বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় উদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে বেগ পাচ্ছে কাবুল।

গেল ৩১ আগস্ট পূর্ব আফগানিস্তানে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ২,২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

এর আগে ২০২৩ সালে পশ্চিম হেরাতে এবং ২০২২ সালে পূর্ব নানগরহার প্রদেশে বড় দুটি ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষ নিহত ও হাজার হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়।

দশকের পর দশক যুদ্ধ, দারিদ্র্য, খরা ও পাকিস্তান-ইরান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া শরণার্থীদের ঢল- সব মিলিয়ে দেশটি এখন বহুমুখী সংকটে জর্জরিত।

আর্থিক সংকটে অনেক বাড়িঘর নিম্নমানের হওয়ায় এবং অবকাঠামো দুর্বল থাকায় ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে আফগানিস্তানে।