হার্টের রোগ এখন বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে কিছু সহজ দৈনন্দিন অভ্যাস মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাস্থ্য সংস্থা ন্যাশনাল হার্ট, লাং এন্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট এমন ১০টি অভ্যাসের কথা বলেছে, যা নিয়মিত অনুসরণ করলে হার্ট সুস্থ রাখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন- বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, বরং ছোট ছোট নিয়ম মেনে চললেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে হৃদ্স্বাস্থ্যের শক্ত ভিত্তি।
হার্ট ভালো রাখার উপায়
হার্ট ভালো রাখতে নীচের ১০টি অভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
১. পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম
প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমের ঘাটতি উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
২. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগের ঝুঁকি কমে। ভালো থাকে হার্ট।
৩. সুষম খাবার গ্রহণ
কম তেল, কম লবণ ও কম চিনি- এমন খাবার বেছে নিন। অর্থাৎ, ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, মিস্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
এর পরিবর্তে শাকসবজি, ফল, মাছ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খান।
৪. নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম
সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন। অল্প সময় হলেও প্রতিদিন সক্রিয় থাকা জরুরি।
৫. ধূমপান পরিহার
ধূমপান সরাসরি হার্ট ও রক্তনালীর ক্ষতি করে। তাই এটি পুরোপুরি এড়িয়ে চলুন।
৬. কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা
অতিরিক্ত কোলেস্টেরল হার্টের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এটি কমাতে সাহায্য করে।
৭. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ
বিশেষ করে ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি। হার্ট ভালো রাখার জন্য এটি জরুরি।
৮. মানসিক চাপ কমানো
মানসিক চাপ হার্টের জন্য ক্ষতিকর। ধ্যান, ব্যায়াম বা শখের কাজে সময় দিলে মানসিক চাপ কমে এবং হার্ট ভালো থাকে।
৯. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
১০. নিজের যত্ন ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখা
পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও নিজের যত্ন নেওয়া মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতায় সহায়ক। এসব অভ্যাস হার্টও ভালো রাখতে সাহায্য করে।
কেন এই অভ্যাসগুলো গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের ছোট ছোট পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলে।
যেমন- প্রতিদিন একটু বেশি হাঁটা, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ বা নিয়মিত ঘুম- এসব অভ্যাস ধীরে ধীরে হার্টের ঝুঁকি কমায় এবং সামগ্রিক সুস্থতা বাড়ায়।
(এটি সাধারণ পরামর্শ সংক্রান্ত প্রতিবেদন। কোন স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)
