১০-২০ কোটি টাকা না থাকলে আসলে নির্বাচন করার সুযোগ নেই: ক্রীড়া উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক-
অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান যে বাস্তবতা, এই বাস্তবতায় ১০-২০ কোটি টাকা না থাকলে আসলে নির্বাচন করার সুযোগ নেই।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, যাদের কাছে কালো টাকা আছে তাদের নির্বাচন করার সুযোগ আছে। গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে ঘুরে ফিরে আমরা আবার একই জায়গায় চলে যাই কিনা। এই যে আমরা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের কথা বলি, সংসদে ৩০০ জন যাবেন। ৩০০ জনের মধ্যে একটা প্রশ্ন হয়ে বসে যে, কয়জনের কাছে ২০ কোটি টাকা আছে। ২০ কোটি টাকা না থাকলে তো কেউ নির্বাচন করতে পারবে না।

সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, যারা একসময় সংস্কারের কথা বলতেন, তারা এখন সংস্কারবিরোধী রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাদের এই রাজনীতির সুফলটা কীভাবে তাদের জন্য কাজ করছে, সেটা আমি জানি না; তবে দেশের জন্য এটা নিঃসন্দেহে ক্ষতিকর।’

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সংস্কার, বিচার ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে আলোচনা চলছে। ‘বিচারের অগ্রগতি হচ্ছে, ১৩ নভেম্বর একটি রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার লকডাউন ডাক দিয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নননির্বাচিত একমাত্র মুসলিম মেয়রকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘জোহরান মামদানি এক্সেপশনাল কেস, তার মতো দু-একজন হতে পারেন; কিন্তু এটা সাধারণভাবে সম্ভব নয়।’

রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর যারা বিপ্লবের স্টেকহোল্ডার ছিলেন, তাদের কেউ কেউ রিয়েকশনালি পলিটিক্সে গিয়ে মুজিববাদী রাজনীতিকে আবার প্রাসঙ্গিক করেছেন—এর দায় কার?’

‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা এখন জনপ্রিয় শব্দ, কিন্তু এর রূপরেখা কেউ স্পষ্ট করতে পারেননি। কিছু পপুলার কার্যক্রম বা একটিভিজম দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হয় না; এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদের সঞ্চালনায় গোলটেবিলে কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজাহার, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।