আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি। নির্বাচনে তার জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জোহরান মামদানি হলেন প্রথম মুসলিম, যিনি নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে জয় পেলেন। জয়ের পর মামদানি বিজয়ী ভাষণে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।
মামদানি ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেহেতু জানি আপনি দেখছেন, আপনার জন্য আমার চারটি কথা: টার্ন দ্য ভলিউম আপ; অর্থাৎ আওয়াজ বাড়ান’
ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কারও কাছে আপনি পৌঁছাতে চাইলে আপনাকে আমাদের সবার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’
জোহরান যখন তাঁর বিজয়ী ভাষণে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিলেন। ঠিক ওই সময়ে ট্রাম্প তাঁর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘…এবং এবার এটা শুরু হলো!’ এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তা পরিষ্কার করেনি।
দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়ে মামদানি বলেন, ‘খারাপ বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে, কারণ ট্রাম্পদের মতো ধনী বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়াদের শোষণ করে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা এমন দুর্নীতির সংস্কৃতি শেষ করব যা বিলিয়নিয়ারদের কর ফাঁকি ও বিশেষ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শ্রমিক সংগঠনের পাশে দাঁড়াব, শ্রম অধিকার সম্প্রসারণ করব। কারণ আমরা জানি, যখন শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে, তখন যারা তাদের শোষণ করতে চায়, তারা ক্ষুদ্র হয়ে পড়ে।’
বিজয়ী ভাষণে মামদানি বলেন, ‘আমরা অভিবাসী, ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি, সেই সব কৃষ্ণাঙ্গ নারী যাদের ট্রাম্প ফেডারেল চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে, কিংবা একক মা যারা এখনো বাজারের দাম কমার অপেক্ষায় সবার জন্য লড়ব।’
মামদানি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, ‘এমন এক সিটি হল গড়ে তুলব যা ইহুদি নিউইয়র্কবাসীদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে এবং ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়বে, যেখানে ১০ লাখেরও বেশি মুসলমান জানবে এই শহর তাদেরও।’
তিনি বিজয় উৎসর্গ করেন সেনেগালের ট্যাক্সিচালক, উজবেক নার্স ও ত্রিনিদাদের রান্নাঘরের কর্মীদের প্রতি। বলেন,
“এই শহর আপনাদের, আর এই গণতন্ত্রও।’
