যুক্তরাষ্ট্র কেন ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করতে চায়?

ইরানের কৌশলগত তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলে স্থলবাহিনী ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে এটি দ্রুত সম্ভব হলেও এতে মার্কিন সেনারা বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খার্গ দ্বীপ কোথায়?

খার্গ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৬ মাইল দূরে পারস্য উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত। এটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমের একটি দ্বীপ।

খার্গ দ্বীপ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কৌশলগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি খার্গ দ্বীপ। এই দ্বীপটিকে ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।

কারণ সাগরের গভীর পানির মধ্যে দ্বীপটির অবস্থান হওয়ায় এখানে বড় তেলবাহী জাহাজ সহজে নোঙর করতে পারে।

এটি বেদখল হয়ে গেলে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যে বড় ধরণের ধাক্কা লাগবে, যা দেশটির অর্থনীতিকে পথে বসিয়ে দিতে পারে।

কী হচ্ছে খার্গ দ্বীপ নিয়ে?

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মার্চের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন বাহিনী খার্গ দ্বীপে হামলা চালায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, সেখানে থাকা সামরিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তেল অবকাঠামোও ধ্বংস করা হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এখন দ্বীপটিতে স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এদিকে মার্কিন আগ্রাসন ঠেকাতে খার্গ দ্বীপের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে ইরান।

ফলে দ্বীপটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপ দখল করতে পারবে?

বিশ্লেষকদের মতে, দ্বীপটি দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তুলনামূলক সহজ হলেও ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় মরণফাঁদের সামনে পড়তে পারে মার্কিন বাহিনী।

এছাড়া, ইরান সমুদ্রপথে মাইন পেতে জাহাজ চলাচল আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান জোসেফ ভোটেল মনে করেন, ১ হাজার মার্কিন সেনাই দ্বীপটি দখলের জন্য যথেষ্ঠ।

তবে তাদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিম্চিত করাই হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এটি হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মিশন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপ দখল করলে মধ্যপ্রাচ্যে সংকট আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, এই পদক্ষেপ ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে আলোচনায় বসতে বাধ্য করবে।