মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সবচেয়ে সংবেদনশীল জলপথগুলোর একটি হলো হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগরকে ওমান সাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়।
প্রায় ৩৩ কিলোমিটার প্রস্থের এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ প্রতিদিন যাতায়াত করে।
বিশেষ করে সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রপ্তানির প্রধান পথ এটি। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রণালীর উত্তর তীর ঘেঁষে রয়েছে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তির মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক টানাপোড়েন বাড়ে।
অতীতে ইরান একাধিকবার হুমকি দিয়েছে, প্রয়োজনে তারা এই জলপথ বন্ধ করে দিতে পারে- যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে।
শুধু তেল নয়, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রণালী বন্ধ হলে বিকল্প পথ দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে।
বিশ্বশক্তিগুলো এই প্রণালীকে নিরাপদ রাখতে নৌবাহিনী মোতায়েন করে। কারণ, হরমুজ প্রণালীতে অস্থিতিশীলতা মানেই বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়া।
ভৌগোলিক অবস্থান, জ্বালানি পরিবহন এবং সামরিক কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালী আজ বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। এখানে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা মানে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখা।
