ইউরিক এসিড কমায় যে ৫ ফল

ইউরিক এসিড বেড়ে গেলে তা জয়েন্টে ব্যথাসহ শরীরে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা ডেকে আনে।

ওষুধের পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কিছু সহজলভ্য ফল নিয়মিত খেলে সেগুলো প্রাকৃতিকভাবেই ইউরিক এসিড কমাতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত গরমে সুস্থ থাকার ৬ উপায়

বাংলাদেশের বাজারে প্রায় সারা বছর সহজে পাওয়া যায়- ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণের এমন ৫টি ফলে ভরসা রাখতে পারেন।

ইউরিক এসিড কমায় যেসব ফল

১. লেবু

লেবু খুবই পরিচিত ও সস্তা একটি ফল, যা প্রায় সব মৌসুমেই পাওয়া যায়। এতে ভিটামিন সি থাকে, যা শরীর থেকে অতিরিক্ত ইউরিক এসিড বের করে দিতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন: গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন? মানুন ৫ খাদ্যাভ্যাস

সেজন্য সকালে খালি পেটে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন।

২. কমলা

কমলা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ হওয়ায় ইউরিক এসিড কমাতে কার্যকর। এটি শরীরের অ্যাসিড-বেস ব্যালান্স ঠিক রাখতেও সাহায্য করে।

ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন একটি করে কমলা খাওয়া যেতে পারে।

৩. কলা

কলা বাংলাদেশে সবচেয়ে সহজলভ্য ফলগুলোর একটি। এতে পটাশিয়াম থাকে, যা কিডনির কার্যকারিতা বাড়ায় এবং ইউরিক এসিড বের করতে সহায়তা করে।

প্রতিদিন ১-২টি কলা খেলে উপকার পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: চোখে ময়লা ঢুকলে করণীয়, যা করবেন না

৪. পেঁপে

পেঁপে হজমে সাহায্য করে এবং শরীরের টক্সিন দূর করতে ভূমিকা রাখে। এতে থাকা এনজাইম প্রদাহ কমাতে সহায়ক, যা গাউটের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ফলে প্রতিদিন হালকা খাবার হিসেবে পাকা পেঁপে খেতে পারেন।

৫. আনারস

আনারসে থাকা ব্রোমেলিন নামের উপাদান প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলা কমিয়ে ইউরিক এসিডের যন্ত্রণা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: জ্বর হলে কি খাবেন?

ইউরিক এসিড কেন বাড়ে?

ইউরিক এসিড মূলত শরীরে পিউরিন নামের একটি উপাদান ভাঙার ফলে তৈরি হয়। সাধারণত কিডনি এটি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়।

কিন্তু অতিরিক্ত লাল মাংস, কলিজা বা সামুদ্রিক মাছ খাওয়া, বেশি তেল-চর্বিযুক্ত ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, কম পানি পান করা, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস বা কিডনি সমস্যা, শারীরিক পরিশ্রম কম করা- এগুলো মিলেই শরীরে ইউরিক এসিড জমতে শুরু করে। ফলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: ৭ বদভ্যাসে প্রতিদিনই কিডনির ক্ষতি করছেন না তো?

ইউরিক এসিড কমাতে করণীয়

সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে ইউরিক এসিড স্বাভাবিক মাত্রায় নামিয়ে আনা যায়।

সেজন্য অতিরিক্ত লাল মাংস কমিয়ে ফল-সবজি বেশি খেলে উপকার পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: হার্ট ভালো রাখার সহজ ৪ অভ্যাস

তবে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে।

(সতর্কতা: এটি চিকিৎসা পরামর্শ নয়। চিকিৎসা বা ওষুধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)