টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে কি না-এই প্রশ্নে যখন পাকিস্তান ক্রিকেটের ভেতরে-বাইরে তীব্র আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই টুর্নামেন্টের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিস্ময়কর বলেই মনে হচ্ছে।
রোববার সকালে লাহোরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে দল ঘোষণা করেন নির্বাচক আকিব জাভেদ। তাঁর পাশে ছিলেন দলের অধিনায়ক সালমান আগা ও প্রধান কোচ মাইক হেসন।
ঘোষিত দলে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম থাকলেও নেই নিয়মিত টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান।
সম্প্রতি নিরাপত্তাশঙ্কার কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বলে আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি।
তিনি জানিয়েছিলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করা হবে। সেই বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করায় প্রশ্ন উঠছে পিসিবি কি কূটনৈতিক চাপের মধ্যেই ক্রিকেটীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে?
সালমান আগার নেতৃত্বে ঘোষিত দলে রয়েছে একাধিক নতুন মুখ। অধিনায়ক সালমান নিজেসহ ফাহিম আশরাফ, খাজা নাফি, সালমান মির্জা, সাহিবজাদা ফারহান ও উসমান তারিক—এই ছয়জন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েছেন। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই দল পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে পাকিস্তান।
অন্যদিকে অভিজ্ঞতার ভার বহন করবেন বাবর আজম, ফখর জামান, শাদাব খান, শাহিন শাহ আফ্রিদী ও নাসিম শাহরা।
সূচি অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পাকিস্তান। ‘এ’ গ্রুপে তাদের সঙ্গে রয়েছে ভারত, নামিবিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে আগ্রহ থাকলেও, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কী মোড় নেয় সেদিকেই এখন তাকিয়ে ক্রিকেটবিশ্ব।
বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগেই তাই মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা পাকিস্তান দলকে ছায়ার মতো ঘিরে রেখেছে। এই অবস্থায় ঘোষিত দল কতটা মানসিকভাবে প্রস্তুত, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
