কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বহু হতাহত

পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সীমান্ত সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার মধ্যে কাবুলসহ কয়েকটি আফগান শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাক বাহিনী।

হামলার পর আফগানিস্তানের হাসপাতালগুলোতে বহু ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।

হামলার পর কাবুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আফগান সরকার। শহরের রাস্তায় ব্যাপক তল্লাশি চালাতে দেখা যায় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের।

কাবুল থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি নাসের শাদিদ জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিট থেকে আফগান রাজধানী কাবুলে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, পাকিস্তানি বিমান আবারও কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া শহরে বোমা হামলা চালিয়েছে।

এর আগে রোববারও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালিয়ে অন্তত ৭০ জন তালেবান যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছিল।

তবে আফগানিস্তান বলেছে, ওই হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

এই হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তান সীমান্তে হামলা চালায় আফগানরা। পাকিস্তান পাল্টা জবাব দিলে রাতেই দুই পক্ষে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এরপর আফগানিস্তানের শহরগুলোতে বিমান হামলা শুরু করে পাকিস্তান বিমান বাহিনী।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্সে লিখেছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে এখন ‘খোলা যুদ্ধ’ চলছে।

উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, দেশটি ‘যেকোনো আগ্রাসী তৎপরতা প্রতিহত করতে পুরোপুরি প্রস্তুত’।

এদিকে বিবিসিকে তালেবান সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, “আমাদের ওপর হামলা হলে আমরা পাল্টা জবাব দেব, তবে এই মুহূর্তে আমরা সংঘর্ষ চাই না।”

পাক-আফগান সীমান্ত সংঘাত

কাবুলে তালেবান ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসী হামলা বাড়তে থাকে।

পাকিস্তান এর জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করলেও তালেবান সরকার দায় অস্বীকার করে আসছে।

এর মধ্যে গত অক্টোবরে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। সেই সংঘর্ষে দুই পক্ষ মিলিয়ে ৭০ জনের বেশি নিহত হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সীমান্তে লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে।