Live: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ, ‘নিহত অর্ধশত’

সীমান্তে পাকিস্তান ও আফগান বাহিনীর সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার সীমান্ত এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুই দেশের সামরিক বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে পাকিস্তান ৪৪ তালেবান যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে। আর আফগানিস্তান ১০ পাক সেনাকে হত্যার দাবি করেছে।

তবে এখনো নিরপেক্ষভাবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা যায়নি।

সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্তে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থানে হামলা চালায় আফগানিস্তান।

পাকিস্তানি বাহিনী এর জবাব দেয়ার পর তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সম্প্রতি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তান বিমান হামলা চালানোর পর এই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটলো।

কাবুলে তালেবান ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে সহিংস উত্তেজনা চলছে।

পাকিস্তান সীমান্তে ব্যাপক সন্ত্রাসী হামলার জন্য ইসলামাবাদ তালেবানকে দায়ী করে আসছে।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, “ডুরান্ড লাইনের বরাবর পাকিস্তানের সামরিক অবস্থান ও স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক আক্রমণাত্মক অভিযান চলছে।”

২ হাজার ৬১১ কিলোমিটার (১ হাজার ৬২২ মাইল) দীর্ঘ দুই দেশের সীমান্ত ‘ডুরান্ড লাইন’ নামে পরিচিত।

পাকিস্তানের ‘১০ সেনা নিহত’

আল জাজিরাকে আফগান সামরিক সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষে পাকিস্তানের ১০ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ১৩টি সীমান্তচৌকি দখল করা হয়েছে।

তবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম, ২ জন পাক সেনার নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে।

‘৪৪ তালেবান যোদ্ধা নিহত’

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিভিন্ন সেক্টরে তালেবান বাহিনীর গুলির জবাবে পাকিস্তানি সেনারা ‘তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া’ জানিয়েছে।

“আফগানদের ব্যাপক হতাহতের তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাদের একাধিক চৌকি ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।”

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৪৪ জন তালেবান যোদ্ধা মারা গেছেন।

আলাদাভাবে এক পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্র আল জাজিরাকে জানায়, আফগানিস্তানের যে তিনটি অবস্থান থেকে গুলি ছোড়া হয়, সেগুলো লক্ষ্য করে পাকিস্তানের পাল্টা হামলার পর আফগান সেনারা পালিয়ে যায়।

গত রোববার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালায়।

ইসলামাবাদ দাবি করে, ওই হামলায় অন্তত ৭০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে আফগানিস্তান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, সেখানে নারী ও শিশুসহ বেসামরিক লোকজন নিহত হয়েছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংঘাত

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে নেমেছে।

গত অক্টোবরে ভয়াবহ সংঘর্ষে দুই পক্ষ মিলিয়ে ৭০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর থেকে স্থল সীমান্তের বেশিরভাগ ক্রসিং কার্যত বন্ধ রয়েছে।

ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কাবুল ব্যর্থ হচ্ছে।

তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।