উত্তেজনা আর শঙ্কার মধ্যে তৃতীয় দফার পারমাণবিক আলোচনা আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা আজ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ছাড়ার পরামর্শও দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার তাঁর স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই থাকার কথা জানান।

তিনি বলেন, উত্তেজনা নিরসনে আলোচনাই তাঁর অগ্রাধিকার।

অন্যদিকে ইরানও কূটনৈতিক সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে তারা আত্মরক্ষায় প্রস্তুত থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান ‘কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না’ এ বিষয়ে তারা একেবারে স্পষ্ট।

একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকারকে ইরানি জনগণের ন্যায্য দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন।

আলোচনার আগে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ) জানিয়েছে, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আন্তরিকতা’ যাচাই করতে চায় তেহরান।

প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইরানের প্রাথমিক সন্দেহকে আরও জোরালো করবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেনেভায় পৌঁছে আরাগচি তাঁর ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেখানে তিনি বলেন, আলোচনার সফলতার জন্য অপর পক্ষের ‘গভীর আন্তরিকতা’ এবং ‘বিরোধপূর্ণ আচরণ ও অবস্থান’ পরিহার করা জরুরি।

অন্যদিকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভও জেনেভায় পৌঁছে আল-বুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে।

বৈঠকে তিনি ইরানের খসড়া প্রস্তাব গ্রহণ ও আলোচনা-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং সম্ভাব্য সংঘাতের শঙ্কা এই আলোচনাকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, কূটনৈতিক অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি দ্রুতই নতুন করে উত্তেজনার দিকে মোড় নিতে পারে।