মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি খাতে ইরানের হামলার ঘটনায় চলমান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।
কাতার জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির প্রধান গ্যাস স্থাপনা রাস লাফফানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর পরপরই দোহা ইরানি নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির হাবশান গ্যাস স্থাপনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবও জানিয়েছে, তাদের দুটি তেল শোধনাগারে হামলা হয়েছে। রিয়াদ স্পষ্টভাবে বলেছে, ‘ইরানের ওপর যে সামান্য বিশ্বাস অবশিষ্ট ছিল, সেটিও পুরোপুরি ভেঙে গেছে।’
কুয়েতেও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, যদিও এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, কাতারে আর কোনো হামলা হলে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রগুলোর একটি সাউথ পার্স ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন, ইসরাইল আর ওই জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাবে না।
অন্যদিকে ইরান ইসরাইলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর আগে তেল আবিব ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয় বলে জানা গেছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও লড়াই তীব্র হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের অভিযানে হিজবুল্লাহর ২০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
গত কয়েক দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের বিমান হামলা ও স্থল অভিযান জোরদার হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সমালোচনা করেছেন।
ম্যাক্রোঁ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও, আরাগচি অভিযোগ করেন-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার বিষয়ে তিনি কোনো নিন্দা জানাননি।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি স্থাপনায় এই ধারাবাহিক হামলা বৈশ্বিক তেল-গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং সংঘাতকে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ দিতে পারে।
