ইফতারে ভাজাপোড়া খাওয়া কতটা ঝুঁকির?

ইফতারে ভোজনরসিক বাঙালির খাবার তালিকা মানে ভাজাপোড়ার বাড়াবাড়ি থাকবেই। ডুবো তেলে ভাজা মচমচে বেগুনি, পিঁয়াজু, আলুর চপ দিয়ে ইফতার সারা বঙ্গ অঞ্চলে রীতিমতো ঐতিহ্য হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে।

কিন্তু এই জিভে জল আনা ভাজাপোড়া খাবারগুলো আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা কি কখনো ভেবে দেখেছেন?

ইফতারে ভাজাপোড়া খাওয়ার ক্ষতি

দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর শরীর চায় পুষ্টিকর এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার।

আরও পড়ুন: রক্তদানের উপকারিতা, আগে-পরে করণীয়

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে অতিরিক্ত তেল ও মশলাযুক্ত খাবার খেলে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

ভাজাপোড়া খাবার শুধু ওজনই বাড়ায় না, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকলাপেও বিঘ্ন ঘটায়।

ইফতারে তেলযুক্ত খাবারের প্রভাব

ইফতারে তেলে ডুবানো ভাজাপোড়া খাবারে শরীরের প্রধান ঝুঁকিগুলো হলো-

অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালাপোড়া: সারাদিন না খেয়ে থাকার পর হঠাৎ ভাজাপোড়া খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালাপোড়া এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

আরও পড়ুন: উচ্চ রক্তচাপের কারণ কি? প্রতিরোধে করণীয়

হৃদরোগের ঝুঁকি: ডুবো তেলে ভাজা খাবারে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স-ফ্যাট থাকে। এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

ক্লান্তি ও অবসাদ: তৈলাক্ত খাবার হজম করতে শরীরের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। ফলে ইফতারের পর সতেজ বোধ করার বদলে অনেক বেশি অলসতা এবং ঘুম ঘুম ভাব অনুভূত হয়।

পানিশূন্যতা: লবণের আধিক্য এবং ভাজাপোড়া খাবার শরীরের পানি শোষণ করে নেয়, যার ফলে রোজাদার ব্যক্তি দ্রুত তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েন।

রমজানে স্বাস্থ্যকর ইফতার

ইফতারে ভাজাপোড়ার বদলে এমন খাবার বেছে নিন যা আপনাকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেবে এবং পাকস্থলীকে শান্ত রাখবে।

আরও পড়ুন: জ্বর হলে কি খাবেন?

সেজন্য পিঁয়াজু, বেগুনি, চপের মত ক্ষতিকর খাবারের পরিবর্তে সেদ্ধ ছোলা, চিড়া, দইয়ের মত স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে পারেন।

জিলাপি বা অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দিয়ে খেজুর, কলা, আপেলের মত ফল খেতে পারেন ইফতারে।

কৃত্রিম শরবত, কোল্ড ড্রিঙ্কসের পরিবর্তে ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ফলের রস হতে পারে স্বাস্থ্যকর ইফতারের আইটেম।

রমজানে সুস্থ থাকার টিপস

খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করুন: খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং ফাইবার শরীরের ক্লান্তি দ্রুত দূর করে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে প্রচুর পানি পান করুন।

ভাপানো বা সেদ্ধ খাবার: খাবারের তালিকায় সেদ্ধ করা ছোলা, সবজি স্যুপ বা ডিম সেদ্ধ রাখতে পারেন।

তেল নির্বাচনে সতর্কতা: যদি ভাজাপোড়া খেতেই হয়, তবে পুরনো পোড়া তেল ব্যবহার না করে প্রতিবার নতুন ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

রোজা রাখা শরীরের জন্য নানা দিক দিয়ে উপকারি। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর ইফতারের মাধ্যমে আমরা সেই উপকারিতা নষ্ট করে ফেলি। তাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থতার জন্য ভাজাপোড়া কমিয়ে পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাবারের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।