গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে সামরিক জোট ন্যাটোতে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড অর্জনের জন্য “বিভিন্ন বিকল্প” নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মধ্যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।
ডেনমার্কের অধীন আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই দ্বীপকে যুক্তরাষ্ট্রের “জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার” বলেও উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
ইউরোপীয় নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলেছেন। ইউরোপীয় নেতারা বলছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল গ্রিনল্যান্ডের জনগণ ও ডেনমার্ক। কোনো তৃতীয় পক্ষ নয়।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও ডেনমার্কের নেতারা জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত অখণ্ডতার নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ ন্যাটোর জন্য “মরণঘণ্টা” হতে পারে।
ন্যাটোর নীতিমালায় সদস্য দেশগুলোর ওপর বাহ্যিক আক্রমণ হলে পারস্পরিক সহায়তার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে জায়গায় এক ন্যাটো সদস্যের বিরুদ্ধে আরেক সদস্যের শক্তি প্রদর্শন নজিরবিহীন সংকট তৈরি করবে।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন ইউরোপীয় সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি সম্মান রেখেই আলোচনা হতে হবে।”
এই বিতর্ক আবার সামনে আসে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর, যেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠদের সামাজিক মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন পতাকার রঙে দেখানো মানচিত্র ছড়ালে উদ্বেগ আরও বাড়ে।
ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার পর্যন্ত বলেন, “গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়াই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।”
গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষের বসবাস। ১৯৭৯ সাল থেকে দ্বীপটি ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করলেও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি ডেনমার্কের হাতে।
জনমত জরিপে দেখা যায়, ডেনমার্ক থেকে ভবিষ্যতে স্বাধীনতা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিরোধিতা প্রবল। মার্চে প্রায় এক হাজার মানুষ ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান।
ইনুইট নাগরিক মরগান আংগাজু বিবিসিকে বলেন, “আমাদের নিয়ে এমনভাবে কথা বলা ভয়ংকর। গ্রিনল্যান্ড কোনো ‘দখলযোগ্য সম্পত্তি’ নয়। এটা গ্রিনল্যান্ডবাসীর ভূমি।”
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড সরাসরি কেনা বা ‘কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন’ চুক্তি করা।
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসে বলেন, আক্রমণের পরিকল্পনা নেই; কেনাবেচার বিষয়টি আলোচনায় থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের বাড়তে থাকা উপস্থিতি, বিরল খনিজ সম্পদের সম্ভাবনা এবং বরফ গলার ফলে নতুন নৌপথ সব মিলিয়ে গ্রিনল্যান্ডকে কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
তবু শক্তি প্রদর্শনের ভাষা ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে গভীর অবিশ্বাস সৃষ্টি করছে।
