রিয়াল মাদ্রিদ ও ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিঁওনের মধ্যে ছয় মাসের ধারের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে ব্রাজিলের কিশোর স্ট্রাইকার এন্ড্রিককে নিয়ে।
১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত লিগ ওয়ানে খেলবেন, যেখানে তার মূল লক্ষ্য নিয়মিত ম্যাচ খেলে ছন্দে ফেরা এবং ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় নিজের জায়গা শক্ত করা।
চুক্তি অনুযায়ী, লিঁওন এন্ড্রিককে ছয় মাসের জন্য ‘ক্লিন লোনে’ দলে নিয়েছে। এ জন্য রিয়াল মাদ্রিদকে প্রায় ১০ লাখ ইউরো ফি দিচ্ছে ফরাসি ক্লাবটি। পাশাপাশি বেতনের একটি অংশও বহন করবে লিঁওন, যা মোট বেতনের প্রায় অর্ধেক।
এই চুক্তিতে কোনো কেনার শর্ত বা বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, ফলে ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে প্রায় ৬ কোটি ইউরো খরচে কেনা এন্ড্রিকের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রিয়ালের হাতেই থাকছে। তার সঙ্গে মাদ্রিদের চুক্তি রয়েছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘গ্যারান্টিড মিনিটস’ শর্ত। এর ফলে কোচ পাওলো ফনসেকার অধীনে নিয়মিত একাদশে সুযোগ পাবেন এন্ড্রিক।
লিঁওনের সাবেক স্ট্রাইকার আলেক্সান্দ্র লাকাজেত্তে ও জর্জেস মিকাউতাদজের গ্রীষ্মকালীন বিদায়ের পর এন্ড্রিককেই দীর্ঘমেয়াদি নাম্বার নাইন হিসেবে দেখছেন ফনসেকা।
বর্তমানে লিগ ওয়ানে পঞ্চম স্থানে থাকা লিঁওন ১৬ ম্যাচে আটটি জয় পেয়েছে এবং শীর্ষে থাকা লেন্সের চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে। শীতকালীন বিরতির পর গোল সংকট কাটাতে এন্ড্রিককে বড় অস্ত্র হিসেবে ভাবছে ক্লাবটি।
মাদ্রিদে সুযোগের অভাবেই বিদায়
রিয়াল মাদ্রিদে কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে এন্ড্রিকের যাত্রা খুব একটা এগোয়নি। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে ফিরে তিনি লা লিগায় মাত্র একটি ম্যাচে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে একবার বদলি হিসেবে নামার সুযোগ পান।
কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রিগোর মতো তারকায় ভরা স্কোয়াডে জায়গা পাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে।
যদিও আলোনসো ধৈর্য ধরার কথা বলেছিলেন এবং অনুশীলনে এন্ড্রিকের পারফরম্যান্সের প্রশংসাও করেছিলেন, তবু নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় বেঞ্চে বসে থাকতে চাননি এই তরুণ।
পালমেইরাস থেকে উঠে আসা এন্ড্রিক নিয়মিত ফুটবল খেলেই ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির নজরে ফিরতে চান।
জানুয়ারিতে আর্সেনাল ও চেলসির আগ্রহ থাকলেও ইউরোপা লিগ খেলার সুযোগ এবং দলে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের উপস্থিতির কারণে লিঁওনকেই বেছে নেন এন্ড্রিক।
অভিষেক ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
আগামী ৩ জানুয়ারি মোনাকোর বিপক্ষে লিগ ওয়ানে অভিষেকের লক্ষ্য এন্ড্রিকের। ফনসেকার আক্রমণভিত্তিক কৌশলে তিনি দ্রুত মানিয়ে নেবেন বলেই আশা করা হচ্ছে। শক্তিশালী হেডিং, বল ধরে রাখার দক্ষতা ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জন্য ইউরোপজুড়ে স্কাউটদের নজরে আছেন এই ১৯ বছর বয়সী।
রিয়াল মাদ্রিদ এই ধারের সিদ্ধান্তকে পিছিয়ে পড়া নয়, বরং পরিকল্পিত উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে লিঁওনের আশা, বিশ্বকাপের প্রেরণা এন্ড্রিকের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক প্রভাব এনে দেবে।
ইউরোপজুড়ে প্রত্যাশা-এই ছয় মাসই হয়তো ক্লাব ও জাতীয় দল-দুটোর জন্যই এন্ড্রিকের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
