বরফের নদী: জমাট জলের জীবন্ত গল্প

যাযাবর মিন্টু

পৃথিবীর কিছু নদী আছে, যেগুলো শুধু পানি নয়- বরফের স্রোত বয়ে নিয়ে চলে।

এগুলোকে বলা হয় হিমবাহ-নদী বা গ্লেসিয়ার। পাহাড়ের চূড়ায় হাজার বছরের তুষারপাত জমে, চাপে চাপে শক্ত বরফে পরিণত হয়। তারপর ধীরে ধীরে সেই বরফ নিজেই সরে চলে একটি জমাট নদীর মতো।

উচ্চ পর্বতশ্রেণি যেমন হিমালয় কিংবা পৃথিবীর দক্ষিণ প্রান্তের অ্যান্টার্কটিকা- এখানেই তৈরি হয় বৃহৎ হিমবাহ। বছরের পর বছর তুষার জমে শক্ত বরফের স্তর গড়ে তোলে। মাধ্যাকর্ষণের টানে সেই বরফ ধীরে ধীরে নিচের দিকে সরে আসে। এই চলমান বরফই ‘বরফের নদী’।

বরফের নদী অত্যন্ত ধীরগতির- কখনও দিনে কয়েক সেন্টিমিটার, কখনও কয়েক মিটার। কিন্তু এর শক্তি অপরিসীম। বিশাল বরফখণ্ড পাহাড় কেটে উপত্যকা তৈরি করে, পাথর ভেঙে নতুন ভূদৃশ্য গড়ে তোলে। নীলাভ স্বচ্ছ বরফ, ফাটলের গভীর ছায়া, আর গলতে থাকা বরফের ঝরণা সব মিলিয়ে এক অপার্থিব সৌন্দর্য।

আজ বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে অনেক হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড ও আলাস্কা অঞ্চলে বরফের নদী আগের চেয়ে দ্রুত ক্ষয় হচ্ছে। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, বদলে যাচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।

বরফের নদী আমাদের শেখায়- প্রকৃতি ধীর হলেও শক্তিশালী। হাজার বছরের সৃষ্টিকে আমরা কয়েক দশকে ঝুঁকির মুখে ফেলছি। তাই পরিবেশ রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বরফের নদী কেবল প্রাকৃতিক বিস্ময় নয়, এটি পৃথিবীর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের গল্প বহন করে চলা এক জীবন্ত দলিল।