মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশী প্রবাসীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজ পাকিস্তানি, ও একজন নেপালি নাগরিক রয়েছেন।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ মোট ৫৮ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে আমিরাতি, মিসরীয়, ইথিওপীয়, ফিলিপিনো, পাকিস্তানি, ইরানি, ভারতীয়, বাংলাদেশি, শ্রীলঙ্কান, আজারবাইজানি, ইয়েমেনি, উগান্ডান, ইরিত্রিয়ান, লেবানিজ ও আফগান নাগরিক রয়েছেন। তাদের বেশিরভাগের আঘাত সামান্য বলে জানানো হয়েছে।
ইরান গত দুই দিনে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে জানিয়েছে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। হামলা প্রতিহত করতে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।
দ্বিতীয় দিনের হামলায় আমিরাতের প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে এবং আরও ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রে ভূপাতিত করে। এছাড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয় এবং ৩১১টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়। তবে ২১টি ড্রোন বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে এখন পর্যন্ত ইরান থেকে মোট ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আমিরাতের দিকে ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ১৩টি সমুদ্রে পড়েছে।
পাশাপাশি ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি ৩৫টি ড্রোন আমিরাতের ভেতরে আঘাত হেনে বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন স্থানে পড়ে বেসামরিক সম্পত্তিতে সামান্য থেকে মাঝারি ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নাগরিক, প্রবাসী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এদিকে জনগণকে শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ এবং গুজব বা যাচাইবিহীন খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
