পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর স্থাপত্যকীর্তি হলো Great Wall of China- বাংলায় যাকে বলা হয় চীনের প্রাচীর।
হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই প্রাচীর কেবল ইট-পাথরের দেয়াল নয়; এটি চীনের ইতিহাস, প্রতিরক্ষা কৌশল ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।
খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে, সম্রাট Qin Shi Huang বিভিন্ন ছোট প্রাচীরকে একত্র করে বৃহৎ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন।
পরবর্তীতে হান ও বিশেষ করে মিং রাজবংশের সময়ে প্রাচীরটি আরও সম্প্রসারিত ও মজবুত করা হয়। উত্তর দিক থেকে আগত যাযাবর আক্রমণ প্রতিহত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রাচীর পাহাড়, মরুভূমি ও তৃণভূমি পেরিয়ে এগিয়েছে। কোথাও ইট-পাথর, কোথাও মাটি ও কাঠ দিয়ে নির্মিত হয়েছে।
নির্দিষ্ট দূরত্বে নির্মিত প্রহরী টাওয়ারগুলো থেকে সৈন্যরা শত্রুর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত এবং ধোঁয়া বা আগুনের সংকেত পাঠাত।
১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো এই প্রাচীরকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করে।
আজ এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র, যেখানে প্রতিবছর লাখো মানুষ ইতিহাসের ছোঁয়া অনুভব করতে আসেন।
চীনের প্রাচীর তাই শুধু একটি স্থাপত্য নয়- এটি মানব অধ্যবসায়, কৌশল ও ঐতিহাসিক ঐক্যের এক অনন্য দলিল।
