এবার ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। কোর্টের এই রায়কে ‘হতাশাজনক’ উল্লেখ করে ট্রাম্প নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দেন। তবে, দুই মধ্যে তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে বৈশ্বিক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি “তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর” হবে।

শুক্রবার ছয়-তিন ভোটে রায়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট এককভাবে শুল্ক আরোপ বা পরিবর্তন করতে পারেন না, কারণ কর আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের। আদালত ট্রাম্পের আরোপ করা জরুরি ক্ষমতার আইনের আওতায় (আইইইপিএ) প্রায় সব দেশের ওপর আরোপিত শুল্ককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে দেয়।

রায়ের পর ট্রাম্প আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন এবং ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২–এর আওতায় নতুন নির্বাহী আদেশে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। শনিবার তিনি সেই হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেন-যা ওই আইনে অনুমোদিত সর্বোচ্চ হার। তবে এ শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যদি না কংগ্রেস তা বাড়ায়।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেকশন ১২২–এর আওতায় আরোপিত শুল্কে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ধাতু ও জ্বালানি পণ্যের মতো কিছু ক্ষেত্রে ছাড় থাকবে।

ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর প্রশাসন ‘আইনসম্মত ও অনুমোদনযোগ্য’ নতুন শুল্ক কাঠামো তৈরিতে কাজ চালিয়ে যাবে।

তিনি ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা বা অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার তদন্তের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশ বা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের জন্য অন্য দুটি আইনও ব্যবহার করা হতে পারে।

ফেডারেল তথ্য অনুযায়ী, জরুরি ক্ষমতার আইনের আওতায় আরোপিত শুল্ক থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ১৩৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আদায় করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারের বেশি আমদানিকারক শুল্ক ফেরতের দাবিতে মামলা করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক সহজে অর্থ ফেরত পেলেও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রক্রিয়াটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচুক্তিগুলোও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-তাইওয়ান চুক্তিতে তাইওয়ানের পণ্যে শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল, আর যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য চুক্তিতে অধিকাংশ ব্রিটিশ পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য রয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, সেকশন ১২২–এর হার কম হলেও যেসব দেশের সঙ্গে উচ্চ হারে চুক্তি হয়েছে, সেগুলো বহাল থাকবে।

এদিকে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের নতুন শুল্ক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প ‘আমেরিকান জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছেন’।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গর্ভনর নিউসম বলেন, ট্রাম্প সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা ভাবছেন না।

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে বলেও জরিপে দেখা গেছে।

রয়টার্স, ইপসোসের এক জরিপে অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় তাঁর প্রতি সমর্থন ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের নতুন শুল্ক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।