ফিরে দেখা ২০২৫: ফুটবলে যেমন গেল হামজা-জামালদের বছর

২০২৫ সাল, বাংলাদেশ ফুটবলের এক আশা জাগানিয়া একটি বছর ছিল। দেশের ছিমিয়ে পড়া ফুটবলে নতুন করে জোয়ার উঠেছে।

ফুটবলকে জমিয়ে তুলতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আয়োজনের কমতি রাখতে চায়নি। দলে নতুন নতুন তারকার অর্ন্তভুক্ত করা, বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ভালো করার চেষ্টা, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ করা, স্টেডিয়াম বা মাঠ সংযোজনসহ অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে, তবে সালে খুব একটা সুবিধা হয়নি।

২০২৫ সাল ছেলেদের জাতীয় ফুটবল দলের জন্য ছিল আশা এবং হতাশার মিশ্র এক বছর।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য সবচেয়ে সুখকর ব্যাপার ছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খেলা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা দেওয়ান চৌধুরীর অর্ন্তভুক্তি।

মার্চে শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয় হামজার। এরপর বাংলাদেশের পুরো ফুটবলের চিত্র বদলে যায়, একাই মাঠের কান্ডারি হয়ে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন হামজা। এরপর একে একে দলে যোগ দেন কানাডা প্রবাসী মিডফিল্ডার সামিত সোম, ফাহমিদুল ইসলাম, কিউবা মিচেল এবং জায়ান আহমেদের মত তারকারা।

হামজা চৌধুরী জাতীয় দলে যোগ দেয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই জামাল ভূঁইয়ার কর্নার অ্যাসিস্টে ভুটানের বিপক্ষে অভিষেক গোল করেছিলেন। এরপর এশিয়ান কাপে হংকং, চায়নার বিপক্ষে ডি বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করেন।

নেপালের বিপক্ষে বাইসাইকেল কিক বা ওভারহেড কিকের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের তৃতীয় এবং একই দিন পেনাল্টি থেকে পানেনকা কিকে ক্যারিয়ারের চতুর্থ গোল করেন বাংলাদেশের হয়ে।

বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য ২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় সাফল্য এএফসি এশিয়ান কাপে ঘরের মাঠে ভারতকে হারানো। ১৮ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেখ মোরসালিনের গোলে ১-০ ব্যবধানের জয়ে ২২ বছর পর ভারতকে হারানোর স্বাদ পায় বাংলাদেশ দল।

২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে সবশেষ ভারতকে হারিয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালে এসে আবারও ভারতকে হারাতে পেরেছে বাংলাদেশ।

২০২৫ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এবং প্রীতি ম্যাচ খেলেছে মোট ৮টি। এরমধ্যে এএফসি এশিয়ান কাপে ৫টি এবং তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে জামাল ভূঁইয়ার দল।

যেখানে তারা ২টি ম্যাচে জিতেছে, ৪টি ড্র করেছে এবং ২টিতে হেরেছে। দুটি জয়ের একটি এসেছে ভারতের বিপক্ষে আরেকটি ভুটানের বিপক্ষে। চার ড্র এর দুটি এসেছে নেপালের বিপক্ষে, একটি করে ভারত ও হংকং, চায়নার বিপক্ষে। দুই হারের একটি করে সিঙ্গাপুর ও হংকং, চায়নার বিপক্ষে।

এ বছর বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের জালে মোট ১০টি গোল দিয়েছে। বিপরীতে হজম করেছে ৯টি গোল। গোলখরায় ভুগতে থাকা বাংলাদেশ দল এখন নিয়মিত গোলের দেখা পাচ্ছে।

এশিয়ান কাপে জাতীয় স্টেডিয়ামে ৭ গোলের রোলার-কোস্টার ম্যাচও দেখেছে বাংলাদেশের দর্শকেরা। জাতীয় দল এএফসি এশিয়ান কাপ এবং ফিফার প্রীতি ম্যাচ ছাড়া আর কোনো আসরে খেলার সুযোগ পায়নি।

র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ফুটবলের উন্নতি হলেও এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার যে আশা তা এবার পূরণ হয়নি। চারদলের মধ্যে তৃতীয় হিসেবে আসর থেকে বিদায় নিয়ে হয়েছে কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরার শিষ্যদের।

বাংলাদেশ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৮৫তম স্থান থেকে এগিয়ে ১৮০তে উঠে এসেছে যা বিগত ৯ বছরে বাংলাদেশ ফুটবলের সর্বোচ্চ সাফল্য। এছাড়া ইতিবাচক দিক হল দর্শকদের বাংলাদেশ ফুটবলের প্রতি আগ্রহ, প্রবাসী ও বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দেয়ার আগ্রহ এবং বড় আকারের ট্রায়াল হওয়া।

বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে স্প্যানিশ হাভিয়ের ক্যাবরেরা দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছেন। তবে তার অধীনে বড় কোনো সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ ফুটবল।

২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ক্যাবরেরা বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তিন বছর পার হলেও সাফল্যে কোনো পালক যুক্ত করতে পারেননি। উল্টো গত বছর থেকে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রথমবার কোনো দেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করা ক্যাবরেরা।