২ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ১০ বছরের কারাদণ্ড, দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তোষাখানা-২ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে নতুন করে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধেও দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ের পর ইমরান খান দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন এবং ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

কারাগারে থাকায় ইমরান খান নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিতে না পারলেও, তার আইনজীবীর সঙ্গে কথোপকথনের বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করা হয়।

সেখানে তিনি জানান, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
তার ভাষায়, “নিজেদের অধিকার আদায়ে পুরো জাতিকে রাস্তায় নামতে হবে।”

ইমরান খান বলেন, এই রায় তার জন্য নতুন কিছু নয়। “গত তিন বছরে যেভাবে ভিত্তিহীন রায় ও সাজা দেওয়া হয়েছে, তোষাখানা ২ মামলার সিদ্ধান্তও তারই ধারাবাহিকতা। কোনো প্রমাণ ছাড়াই এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তড়িঘড়ি করে এই রায় দেওয়া হয়েছে। আমাদের আইনজীবীদের কথাও শোনা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন ও সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ইনসাফ লইয়ার্স ফোরামসহ আইনজীবী সমাজকে সামনে আসতে হবে। ন্যায়বিচার ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিটিআই এক বিবৃতিতে ইমরান খান ও বুশরা বিবির বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে “স্পষ্টভাবে অসাংবিধানিক, বেআইনি ও রাজনৈতিক প্রতিশোধের জঘন্য উদাহরণ” বলে আখ্যা দিয়েছে।

দলটির দাবি, এই রায়ের মূল উদ্দেশ্য ইমরান খানের কারাবাস দীর্ঘায়িত করা এবং ক্ষমতাসীনদের সাময়িক স্বস্তি দেওয়া।

পিটিআই মহাসচিব সালমান আক্রম রাজা, সিনিয়র নেতা আসাদ কায়সারের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আদালতে প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার সালমান সাফদারের সঙ্গে বৈঠকে ইমরান খান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।

সালমান রাজা অভিযোগ করেন, মামলাটি দুর্বল সাক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতিপত্রের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। “একজন ব্যক্তি বলল তার ওপর চাপ ছিল-সেটাকেই প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

আসাদ কায়সার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত পিটিআইয়ের আন্দোলন চলবে বলেও তিনি জানান।

পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াকাস আক্রম অভিযোগ করেন, কারাগারের ভেতরে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টে’ এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং ইমরান খানের পরিবারকে সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, একই অভিযোগে একাধিকবার সাজা দেওয়া সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের ‘ডাবল জিওপার্ডি’ নীতির পরিপন্থী।

ইমরান খানের বোন আলেমা খান রায়কে ‘আগেই লেখা চিত্রনাট্যের অংশ’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “মনে হচ্ছিল দ্রুত রায় ঘোষণার তাড়া ছিল। ১০ বছর দিন বা ১৪ বছর তাতে কী আসে যায়?”