বাংলাদেশ, ভারতের মত দেশে এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
সচেতনতার অভাব, রোগ শনাক্ত না হওয়া ও সঠিক চিকিৎসার অভাবে এই অঞ্চলে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরিশালে শিক্ষার্থীরা যে কারণে এইডসে আক্রান্ত হচ্ছে
এইচআইভি (HIV) কি?
এইচআইভি হলো এমন ভাইরাস, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ায়। এখনো এর কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই, তবে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।
এইডস (AIDS) কি?
এইডস হলো এইচআইভি ভাইরাসের কারণে শরীরে তৈরি হওয়া বেশকিছু অসুস্থতার সমষ্টি। সেজন্য এইডসকে বলা হয়, শেষ ধাপের এইচআইভি।
অর্থাৎ, এইচআইভি ভাইরাস গুরুতর আকার ধারণ করলে তা এইডসে রূপ নেয়। তবে নিয়মিত এইচআইভির চিকিৎসা নিলে এইডস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে।
এইচআইভি সংক্রমণের লক্ষণ
সবার ক্ষেত্রে এইচআইভির উপসর্গ এক রকম হয় না। কেউ কেউ সংক্রমণের ২ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ফ্লু-জাতীয় অসুস্থতা অনুভব করতে পারেন।
এইচআইভির লক্ষণের মধ্যে রয়েছে, গলা ব্যথা, জ্বর, গ্রন্থি (গ্ল্যান্ড) ফুলে যাওয়া, মাংসপেশিতে ব্যথা ও ক্লান্তি, ত্বকে র্যাশের মত শারিরিক সমস্যা।
তবে এসব উপসর্গ অনেক সাধারণ রোগেও দেখা যায়। আবার অনেক সময় এইচআইভির অন্য কোন লক্ষণ বছরের পর বছর দেখা নাও যেতে পারে।
এ কারণেই অনেক মানুষ জানেন না যে, তারা এইচআইভিতে আক্রান্ত। আর সময় মতো এইচআইভির চিকিৎসা না হলে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ফলে সময়ের সাথে সাথে এটি আরও গুরুতর অসুস্থতা, যেমন যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া বা ক্যানসারের রোগ ডেকে আনতে পারে।
এই অবস্থাকে গুরুতর এইচআইভি, শেষ ধাপের এইচআইভি বা এইডস বলা হয়।
এইচআইভি সংক্রমণের কারণ
এইচআইভি আছে, এমন ব্যক্তির সঙ্গে কনডম ছাড়াই যোনি, পায়ুপথ বা ওরাল সেক্স করলে সাধারণত এইচআইভি ছড়ায়।
কারণ এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ অন্যের রক্তে প্রবেশ করলে এই ভাইরাস ছড়ায়। এসব তরলের মধ্যে আছে- রক্ত, বীর্য, যোনি নিঃসরণ এবং পায়ুপথের ভেতরের মিউকাস।
ফলে অনিরাপদ যৌন মিলন এইচআইভি বা এইডসে আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ।
এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে সেক্স টয় ভাগাভাগি করাও এইচআইভিতে সংক্রমিত হওয়ার কারণ হতে পারে।
এছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার করা ইনজেকশনের সূচ, সিরিঞ্জ বা মাদক গ্রহণের সরঞ্জাম থেকেও এইচআইভিতে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মের সময় মা এইচআইভি আক্রান্ত হলে সে সন্তানও তাতে সংক্রমিত হতে পারে।
তবে চুমু খাওয়া, আলিঙ্গন, হাত মেলানো, একই টয়লেট ব্যবহার, একসঙ্গে খাবার খেলে, একই থালা-বাসন ব্যবহার করলে এইচআইভি ছড়ায় না।
এইচআইভি থেকে বাঁচার উপায়
এইচআইভি থেকে বাঁচার প্রধান উপায় হলো, অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে না জড়ানো।
বিয়ে বহির্ভূত যৌন মিলনে (যোনি, পায়ুপথ বা ওরাল সেক্স) কনডম ব্যবহার করুন, এটি এইচআইভি ও অন্যান্য যৌনবাহিত রোগ থেকে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
যৌন মিলনে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করলে পানিভিত্তিক লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন, কারণ তেলভিত্তিক লুব্রিকেন্ট কনডম ছিঁড়ে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে অনিরাপদ যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার সন্দেহ তৈরি হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা নিন।
কখনোই সূচ, সিরিঞ্জ, মাদক সেবনের দ্রব্য অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না।
এইচআইভির চিকিৎসা
এখনও এইচআইভির কোন স্থায়ী চিকিৎসা বের হয়নি। তবে রক্তে থাকা এইচআইভি ভাইরাসের পরিমাণ কমানোর কার্যকর ওষুধ রয়েছে।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশ, ভারতেও এইচআইভি চিকিৎসার বিশেষায়িত স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে।
সাধারণত এইচআইভি চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ নিয়মিত খেতে হয়।
এর লক্ষ্য হলো রক্তে থাকা ভাইরাসকে এত কমিয়ে আনা, যাতে যন্ত্র দিয়ে পরিমাপ করা না যায়। একে অদৃশ্য ভাইরাল লোড বলা হয়।
নিয়মিত ওষুধ খেলে সাধারণত ৬ মাসের মধ্যে এইচআইভি ভাইরাস অদৃশ্য হয়ে যায়।
এইচআইভি সংক্রমণেই এইডস হয়?
এইচআইভি মানুষের জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। কারণ, এটি জীবনব্যাপী নানা সংকটের কারণ হতে পারে।
তবে সঠিক চিকিৎসায় বেশিরভাগ এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি কখনোই এইডসে আক্রান্ত হন না। তারা দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।
তাই এইচআইভির কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মানসিক উদ্বেগ কমাতে কাউন্সিলরের সাহায্য নিন।
এছাড়া আপনার সঙ্গী বা সাম্প্রতিক যৌনসঙ্গীদেরও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর তাগিদ দিন।
