লকডাউন: রাজনৈতিক সহিংসতায় নিরাপদে থাকার ৫ উপায়

আওয়ামী লীগের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে নিরাপদে থাকার পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রায়ের আগে বৃহস্পতিবার কর্মসূচি ডেকেছে দেশটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা রাজনৈতিক দলটি।

এর দুই দিন আগে থেকেই সহিংস পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে ঢাকার দৃশ্যপট। ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহনে আগুন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরপাকড়- সবমিলিয়ে ঢাকা জুড়ে এখন উত্তপ্ত বৃহস্পতিবারের আভাস।

যা নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে ঢাকার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জ্বালাও-পোড়াওয়ে যেভাবে নিরাপদে থাকবেন

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূলত ২ ধরণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন নগরবাসী।

এর মধ্যে যানবাহনে আগুনকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন তারা। এছাড়া রয়েছে ককটেল বিস্ফোরণের ঝুঁকি।

এ পরিস্থিতিতে নিরাপদে থাকার ৫ পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

১. সম্ভব হলে বাসায় থাকুন

বৃহস্পতিবার ক্লাস-পরীক্ষা, ব্যবসা পরিচালনা বা অন্য কোন কাজে খুব জরুরি না হলে ঢাকার রাস্তায় বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন।

চাকরি করলে ছুটি নিয়ে বাসায় থাকার চেষ্টা করুন।

২. বাইরে বের হলে সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন

যদি একান্তই বাইরে বের হতে হয়, তাহলে সময়ের দিকে খেয়াল রাখুন।

সাংবাদিক হিসেবে এক দশক ধরে ঢাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সাংবাদিক মেহেদী হাসান বলছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সহিংস চোরাগোপ্তা ঘটনাগুলো ঘটে মূলত সকালে ও সন্ধ্যার পরে।

বাংলা ইনসাইট টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সহিংসতার মধ্যে বাইরে বের হতে হলে সকালের দৃশ্যমানতা পরিস্কার হওয়া ও জনসমাগম বাড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। তখন আর কেউ খুব একটা সহিংসতা ঘটানোর সাহস করে না। কারণ ধরা পড়ার ঝুঁকি থাকে।

“বিকালের পর থেকে আবার ঝুঁকিটা বাড়তে থাকে। তাই বাইরে হলে বিকালের মধ্যেই ফিরে আসা উচিত।”

৩. সঙ্গে পরিচয়পত্র রাখুন

বাইরে যেতে হলে প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন। কারণ, এ ধরণের পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারও করে।

সেজন্য পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা আপনাকে অহেতুক ঝামেলা থেকে রক্ষা করতে পারে।

৪. সম্ভব হলে যানবাহন এড়িয়ে চলুন

বাসা কর্মস্থলের খুব বেশি দূরে না হলে যানবাহন এড়িয়ে হেঁটে আসা যাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দুর্বৃত্তদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে থাকে যানবাহন।

৫. স্পর্শকাতর এলাকা এড়িয়ে চলুন

সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রায়ই সরকারি অফিস, সরকারি স্থাপনা ও সরকারি যানবাহন লক্ষ্যবস্তু করা হয়। আদালতপাড়া, সরকার সমর্থক রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ও থাকে নিশানায়।

এছাড়া জনসমাগম কম, এমন রাস্তায় যানবাহনও হামলার শিকার হয়ে থাকে।

ফলে এ ধরণের স্পর্শকাতর এলাকা এড়িয়ে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।