পরিসংখ্যানে এশিয়া কাপ: সাফল্য-ব্যর্থতা, রান-উইকেট, বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় ?

এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ১৭তম আসর শুরু হতে যাচ্ছে মঙ্গলবার। সংযুক্ত আরব আমিরাতে হতে যাওয়া এবারের আসরটি হবে টি-টুয়েন্টি সংস্করণে। গ্রুপপর্ব দিয়ে এশিয়া কাপের উদ্বোধন হবে ৯ সেপ্টেম্বর, ২৮ তারিখ ফাইনালের মধ্য দিয়ে আসরের পর্দা নামবে। খেলাগুলো হবে দুবাইয়ে এবং আবুধাবিতে।

এ আসরের সব ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়। এশিয়া কাপের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নানাবিধ পরিসংখ্যান রয়েছে। চলুন এক নজরে দেখে আসি সেগুলোর কিছু।

এশিয়া কাপ ক্রিকেটের প্রথম আসর শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। সেবার শুধু ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা অংশগ্রহণ করেছিল। ২০১৪ সাল পর্যন্ত এশিয়া কাপে মোট ১২টি আসর হয়েছিল ওয়ানডে সংস্করণে। এরপর থেকে বৈশ্বিক আসর বিবেচনায় এটি কখনও এ আসর ওয়ানডে, আবার কখনও এটি টি-টুয়েন্টি সংস্করণে হয়ে আসছে।

বাংলাদেশ এশিয়া কাপ ক্রিকেটে প্রথমবার অংশগ্রহণ করে ১৯৮৬ সালে। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে খেলে এবারের আসরসহ মোট ১৪টিতে খেলেছে দলটি। লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রানার্সআপ হওয়ার সাফল্য পেয়েছে। এ পর্যন্ত তিনবার ফাইনাল খেলে তিনবারই রানার্সআপ বাংলাদেশ। প্রথমবার ২০১২ সালে, তারপর ২০১৬ সালে এবং সবশেষ ২০১৮ সালে ফাইনাল খেলেছিল মাশরাফি-সাকিবরা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া এবারের আসরে বাংলাদেশসহ মোট ৮টি দল অংশগ্রহণ করছে। লিটন দাসের দল খেলছে গ্রুপ ‘বি’তে। তাদের অন্যান্য প্রতিপক্ষরা হল হংকং, শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তান। ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসরের যাত্রা শুরু বাংলাদেশ। ১৩ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে দ্বিতীয় ম্যাচ এবং ১৬ তারিখ টিম টাইগার্স আফগানিস্তানের বিপক্ষে খেলবে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ।

ক্রিকেটের এ আসরে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলেছেন উইকেট কিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। ২৫ ম্যাচ খেলা মুশফিক দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৩০ রান করেছেন। এখানে তার ২টি সেঞ্চুরি এবং ৩টি ফিফটি রয়েছে। ২ ম্যাচে অপরাজিত থাকা মুশফিকের সর্বোচ্চ ইনিংসটি ১৪৪ রানের। এ আসরে সর্বোচ্চ রানের মালিক সনৎ জয়সূরিয়া, করেছেন ১২২০ রান। ৬টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি তার ৩টি ফিফটি রয়েছে। তবে আসরে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৮৩ রানের ইনিংসটি খেলেছেন ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার বিরাট কোহলির দখলে।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী যৌথভাবে দুই বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসান। দুজনেই সমান ১৮টি করে ম্যাচ খেলেছেন, নিয়েছেন ২২টি করে উইকেট। রাজ্জাকের সেরা বোলিং ১৭ রানে ৩ উইকেট এবং সাকিবের ৪২ রানে ৪ উইকেট। রাজ্জাক মোট বল করেছেন ১৭০.২ ওভার ও সাকিব করেছেন ১৭১.১ ওভার। দুজনের ইকোনোমি রেটও কাছাকাছি, রাজ্জাকের ৪.৬৭ এবং সাকিবের ৪.৭৪। রাজ্জাক তার ক্যারিয়ারে মোট ১০ ওভার মেডেন এবং সাকিব ৯ ওভার মেডেন নিয়েছেন। এশিয়া কাপে বোলারদের সর্বোচ্চ ৩০ উইকেটের মালিক শ্রীলঙ্কান স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরন।

মোট ১৬ আসরে সর্বোচ্চ ৮ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে শ্রীলঙ্কা। এছাড়া ২বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। আর কোনো দল এ আসরের শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বইছে, খেলোয়াড়েরাও ফর্মে আছেন। সুতরাং এবার তানজিদ-লিটনদের হাত ধরে কি কাটবে এশিয়া কাপে শিরোপার খরা।