যুদ্ধবিরতি নিয়ে টানাপোড়েন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে টানাপোড়েন, অন্যদিকে লেবাননে ইসরাইলের ব্যাপক হামলায় একদিনেই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি। সব মিলিয়ে অঞ্চলজুড়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেছেন, ইরানকে ঘিরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব জাহাজ, বিমান ও সামরিক সদস্যরা বর্তমান অবস্থানেই থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি প্রকৃত যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি কার্যকর না হয়, তাহলে সংঘাত আরও বাড়তে পারে।’

এদিকে লেবাননে ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় একদিনেই অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ১,১৬৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হতাহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

এই ঘটনার পর দেশটিতে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, ইসরাইলের হামলা বন্ধ করতে তিনি দেশের সব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তিকে সক্রিয় করছেন। তিনি এটিকে ‘নিরবচ্ছিন্ন হত্যাযজ্ঞ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, হাসপাতালগুলোতে জায়গা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিভ্রান্তি

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।

একই কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি।’

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, লেবানন প্রসঙ্গে চুক্তির শর্ত ‘স্পষ্ট’। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, ‘তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে-তারা যুদ্ধবিরতি চায়, নাকি ইসরাইলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। দুটো একসঙ্গে সম্ভব নয়।’

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি প্রশ্নে অনিশ্চয়তা, ইসরাইলের আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং লেবাননের মানবিক সংকট-সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।