আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং খুব শিগগিরই এই ‘অভিযান শেষ করা হবে’। জাতির উদ্দেশে ভাষণে একথা বলেন ট্রাম্প।
তবে একই সময়ে ইরান যুদ্ধবিরতির কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে জানিয়েছে এবং ইসরাইল ও মার্কিন স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান আবারও ইসরাইলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান নাকি যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছে, যা সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তাদের দেশের জনগণের যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর জনগণের প্রতি কোনো শত্রুতা নেই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের লারেস্তান ও মিয়ানেহ এলাকায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েতের প্রধান বিমানবন্দরে জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল বাহিনী। এছাড়া বাহরাইন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে সাইরেন বাজতে শোনা গেছে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্রে খণ্ডিত বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের হুমকির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরানকে ‘পাথরযুগে ফিরিয়ে নেওয়া হবে’।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সময়সূচির সঙ্গেও ট্রাম্পের বক্তব্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে। নেতানিয়াহু সম্প্রতি বলেছেন, ইরানে চালানো হামলার লক্ষ্যগুলোর অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত আকার ধারণ করছে এবং ইরানের সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো—যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও কারখানাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংঘাতে তিনজন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষীর নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত চলছে, যদিও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তদন্তে সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
